ওঙ্কার ডেস্ক: গত ২ আগস্ট ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস শেষ হয়েছে। এই গেমসে ভারতের পদক সংখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। গ্লাসগো গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক পেয়েছে, যার মধ্যে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপা ও ৯টি ব্রোঞ্জ। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের কুয়ালালামপুর গেমসের পর এই প্রথমবার ভারত ৫০-এর কম পদক পেল। ২০০২ সালের ম্যানচেস্টার গেমসে ৬৯টি পদক জয় করেছিল ভারতের অ্যাথলিটরা। সেই তুলনায় গ্লাসগো গেমসে ভারত গত ২৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পদক জয় করতে পেরেছে।
ইভেন্টের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ভারত চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। যা সাম্প্রতিককালে অন্যতম সেরা মাল্টি-স্পোর্ট সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আর্থিক সঙ্কটের কারণে গ্লাসগো গেমসে মাত্র ১০টি খেলা রাখা হয়েছিল। চার বছর আগে বার্মিংহামে যেখানে খেলার সংখ্যা ছিল ১৯টি। কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ১৩৫টি পদক জয় করেছে শুটিং এ, কুস্তিতে ১১৪টি পদক, ব্যাডমিন্টনে ৩১টি পদক, টেবিল টেনিসে ২৮টি পদক এবং ফিল্ড হকিতে ৬টি পদক পেয়েছে ভারতের অ্যাথলিটরা। এই খেলাগুলোতে—ভারতের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে গ্লাসগো গেমসের তালিকা থেকে সেগুলোকে বাদ দিতে হয়। ২০২২ সালের বার্মিংহাম গেমসে বাদ পড়া এই পাঁচ খেলা থেকেই ভারত মোট ৬১টি পদকের মধ্যে ৩০টি জিতেছিল। যার মধ্যে ১৩টি সোনা ছিল।
তবে গ্লাসগো গেমসে ভারতের বক্সিং দল অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। ১৪ জন বক্সারের দল নিয়ে টিম ইন্ডিয়া মোট ১০টি পদক জিতেছে। যার মধ্যে রয়েছে ৭টি সোনা ও ৩টি রুপো। এটি নতুন ধারার সূচনা বলে মত ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের। নারী বক্সারদের মধ্যে প্রীতি পাওয়ার, জ্যাসমিন লামবোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘংঘাস এবং অরুন্ধতী চৌধুরী—এই পাঁচ জন সোনার পদক জয় করেছেন। পুরুষ বিভাগে শচীন সিওয়াচ ও অঙ্কুশ পাংঘাল শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন। এই গেমসে ভারতের বক্সিং দলের সাফল্য কমনওয়েলথ গেমস-এর ইতিহাসে কোনও একটি দেশের বক্সিংয়ে সবচেয়ে ভাল পারফরম্যান্স হিসেবে রেকর্ড।