ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও সুসংহত করতে ভারতীয় নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হল অত্যাধুনিক দেশীয় স্টেলথ গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি। বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুদ্ধজাহাজটির কমিশনিং সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। এই যুদ্ধজাহাজের অন্তর্ভুক্তিকে নৌ-ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইএনএস মহেন্দ্রগিরি প্রজেক্ট ১৭এ-র আওতায় নির্মিত একটি অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন, বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম। এই যুদ্ধজাহাজটি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধজাহাজটির নির্মাণে দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণে এটি একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্টেলথ প্রযুক্তির কারণে এই যুদ্ধজাহাজকে শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে শনাক্ত করা যায় না। একই সঙ্গে এতে রয়েছে অত্যাধুনিক রাডার, সেন্সর, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। যুদ্ধজাহাজটি সমুদ্রে শত্রু যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং আকাশপথে আসা হুমকি মোকাবিলায় একযোগে অভিযান চালাতে সক্ষম। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে টহল দেওয়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখা, বাণিজ্যিক জলপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা অভিযানে অংশ নেওয়ার মতো বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করতে পারবে এটি।
কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়লেও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, দক্ষ সেনা এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর কোনও বিকল্প নেই”। তিনি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের উপর জোর দিয়ে বলেন, ভারত এখন শুধু নিজের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, ভবিষ্যতে বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।