ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহের মধ্যেই অবশেষে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছেছে এলপিজি বোঝাই একটি ট্যাঙ্কার। এই ঘটনাকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে যখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই ভারতের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের পথ। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারের বড় অংশই এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে থাকে। ফলে এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও আশঙ্কা দেখা দেয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এলপিজি সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হতে পারত বলে মনে করা হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কারটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দেশের বন্দরে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে। জাহাজটিতে বিপুল পরিমাণ তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জানা গিয়েছে, ভারত সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই এই জাহাজের যাত্রা সম্ভব হয়েছে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই ঘটনাকে কূটনীতির সাফল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেও সংলাপ, সমন্বয় এবং ধৈর্যের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেই ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা গিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তাই প্রতিটি জাহাজের যাত্রার ক্ষেত্রেই আলাদা করে নিরাপত্তা এবং অনুমতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবুও এই ঘটনাকে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহণের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে এই পথ সচল থাকা শুধু ভারতের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
