ওঙ্কার ডেস্ক: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভে এবার অভিনব প্রতিবাদে নজর কাড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলত্যাগ করে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়া বাংলার ২০ জন সাংসদকে ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদে সামিল হন তিনি। সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন নিজের পিঠে একটি পোস্টার ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানান তৃণমূল সাংসদ। পোস্টারে বাংলার সেই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের নাম এবং তাঁদের ‘গদ্দার’ বলে উল্লেখ করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। সেই বার্তাই সংসদের ভিতরে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে এই পন্থা বেছে নেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিক্ষোভ চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোস্টার ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়। বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণ রাজনৈতিক আলাপও হয়। আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী উল্লেখ করেন যে, তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসেই ছিলেন, কিন্তু নানা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল গড়তে হয়। তবে দিনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিঠে ঝোলানো পোস্টার। তৃণমূলের দাবি, বাংলার মানুষ যাঁদের তৃণমূলের প্রতীকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের একটি অংশ পরে দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। সেই ঘটনাকে ‘জনমতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছে তৃণমূল। তাই সংসদের বিক্ষোভ মঞ্চকেই এই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উপযুক্ত জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।