ওঙ্কার ডেস্ক: আম আদমি পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকট এক নাটকীয় মোড় নেয়, যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তার আগেই ভেঙে পড়ে সাংগঠনিক ঐক্য। দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাধিক রাজ্যসভার সাংসদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। সেই প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসার উদ্যোগ নেন।
কেজরিওয়াল নাকি নিজের বাসভবনে তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে মতবিরোধ মেটানোর চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন। এমনকি, অসন্তুষ্ট সাংসদদের উদ্দেশে একটি প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল আপাতত সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলে ভবিষ্যতে তাঁদের পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। কিন্তু সেই আলোচনার সুযোগ আর তৈরি হয়নি। কারণ বৈঠকের আগেই একে একে ওই সাংসদরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, শুরুতে তাঁরা কেউই একজোট হয়ে পরিকল্পনা করেননি। প্রত্যেকে আলাদা ভাবে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং দলবদলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
দলত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য চলছিল। বিশেষ করে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলি ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছিল। এর ফলে নেতৃত্বের উপর আস্থা ক্রমশ কমতে থাকে। আরও জানা যায়, কয়েকজন সাংসদ দীপাবলির আগেই দলবদলের বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন। পাশাপাশি, কেজরীবালের ডাকা বৈঠকে তাঁদের উপর ইস্তফার চাপ তৈরি হতে পারে এই আশঙ্কাও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।