ওঙ্কার ডেস্ক: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এক কনস্টেবল। আর তার মাশুল এভাবে দিতে হবে তা কল্পনাও করেননি তাঁর স্ত্রী। ওই কনস্টেবলের প্রেমিকা বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করল। ছুরিকাঘাতের ফলে গুরুতর জখম কনস্টেবলের আরও দুই সন্তান। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিসগঢ়ের দুর্গে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রিপোর্ট অনুসারে, ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে। অভিযুক্ত তরুণীর নাম সরোজিনী ভরদ্বাজ। এদিন দুর্গে কনস্টেবল ললিতেশ যাদবের ফ্ল্যাটে আসেন তিনি। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না ললিতেশ। স্ত্রী ও সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল, আর সে কারণে টিকিট কাটতে রেলস্টেশনে গিয়েছিলেন তিনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, সরোজিনী ভরদ্বাজ প্রথমে ললিতেশের স্ত্রী রীনা যাদবের সঙ্গে বচসায় জড়ান। ঝামেলার আওয়াজ বাইরে যাতে কেউ শুনতে না পায় সে কারণে টিভির আওয়াজ বাড়িয়ে দেন। অভিযোগ, এরপর একটি ছুরি দিয়ে রীনা যাদবের উপর আক্রমণ করে অভিযুক্ত। তারপর তাঁর সন্তানদের ওপর হামলা চালান। প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা নয় বছর বয়সী আদিত্যকে ছুরিকাঘাত করেন সরোজিনী। এর পর দুই শিশুকন্যাকে আক্রমণ করতে গেলে গুরুতর আহত অবস্থায় রীনা যাদব কাতর আর্জি জানান মেয়েদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য। অভিযুক্তের পা জড়িয়ে ধরে মেয়েদেরকে পালিয়ে যেতে বলেন। এক জন বাথরুমে লুকিয়ে পড়ে, অন্য জন বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেয়। এ কথা শোনার পর প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি ছুটে যায়। ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন সরোজিনী হাতে রক্তাক্ত ছুরি নিয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে। তড়িঘড়ি অভিযুক্তের কাছ থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নেন তাঁরা। সেই সঙ্গে তরুণীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রীনা যাদব ও তার সন্তানদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গেলে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এখনও দুই মেয়ে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সরোজিনী ভরদ্বাজ ও ললিতেশ যাদবের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুক্রবারও তিনি ললিতেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখন ললিতেশ তাকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু শনিবার আবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান অভিযুক্ত। ভিলাই সিএসপি সত্যপ্রকাশ তিওয়ারি এই ঘটনা নিয়ে বলেন, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।