ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার আর্জিতে অনশনে বসেছেন বিশিষ্ট সমাজবিদ তথা বৈজ্ঞানিক সোনাম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসা পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কায় এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে। তাঁর জীবন রক্ষায় অবিলম্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে কেন্দ্র সরকার, দিল্লি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ায় সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ছাড়া অনশন চালিয়ে গেলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই কারণে তাঁকে অবিলম্বে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার আওতায় আনার আবেদন জানানো হয়েছে। পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, দেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে। তাই কোনও ব্যক্তি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিলেও রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাঁর জীবন রক্ষা করা। আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও আবেদনকারী পক্ষের দাবি। নিজের অনশন ভাঙার জন্য আগে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বলিউড অভিনেতা ওম ভাইদ্যা সহ বিশিষ্ট ব্যাক্তি সোনাম ওয়াংচুককে অনুরোধ করেছেন।
অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুক তাঁর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড়। তিনি জানিয়েছেন, লাদাখ-সহ একাধিক জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন না। তাঁর দাবি, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, শারীরিক দুর্বলতা বাড়লেও তাঁর মনোবল অটুট রয়েছে এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন নেই। এই পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য নির্দেশের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল, মানবাধিকার কর্মী এবং ওয়াংচুকের সমর্থকদের। মামলার শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই নির্ভর করবে তাঁর চিকিৎসা এবং আন্দোলনের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।