ওঙ্কার ডেস্ক: কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। বিরোধী শিবিরকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে কংগ্রেসের সঙ্গে সর্বাত্মক রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বার্তা সামনে এসেছে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মধ্যে দূরত্ব কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার কৌশল হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থানের পরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ায়, তৃণমূল কংগ্রেস কি কংগ্রেসের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়তে চলেছে? এমনকি দুই দলের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনও বড় রাজনৈতিক সমঝোতা বা কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দলের স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা বজায় থাকছে এবং কোনও ধরনের দলীয় বিলয় বা একীভূতকরণের প্রশ্ন বর্তমানে নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার সামনে এসেছে। বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সমঝোতার বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে দেশজুড়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আগামী দিনে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয় এবং বিরোধী জোটের রাজনীতিতে তার কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন নজর দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।