ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এল কেন্দ্রীয় সরকারের এক সমীক্ষায়। জল জীবন মিশনের অধীনে প্রকাশিত ফাংশনালিটি অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের গ্রামে প্রতি তিন গ্লাস পানীয় জলের মধ্যে প্রায় এক গ্লাসই মানুষের পান করার অযোগ্য। সমীক্ষায় পরীক্ষিত জল নমুনার প্রায় ৩৭ শতাংশেই ব্যাকটেরিয়া বা রাসায়নিক দূষণের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
এই সমীক্ষা অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় জল সরবরাহ ব্যবস্থার বিস্তার হলেও জলের গুণমান সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। বহু বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছলেও সেই জল নিরাপদ কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে আসছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং হাসপাতাল গুলিতে ব্যবহৃত পানীয় জলের মান অত্যন্ত খারাপ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কুলে পড়ুয়াদের পান করার জলের একটি বড় অংশেই জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত জেলাগুলিতে। অনুপপুর, দিন্ডোরির মতো জেলায় পরীক্ষিত কোনও জল নমুনাই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে চিহ্নিত হয়নি। বালাঘাট, বেতুল, ছিন্দওয়াড়ার মতো একাধিক জেলায় অর্ধেকেরও বেশি পানীয় জল নমুনা দূষিত। এর ফলে ডায়ারিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো জলবাহিত রোগের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের প্রায় সব গ্রামেই পাইপলাইন পৌঁছে গেলেও বাস্তবে খুব অল্প সংখ্যক পরিবারই নিয়মিত ও নিরাপদ কলের জল পাচ্ছে। কোথাও জল আসে অনিয়মিতভাবে, আবার কোথাও জল এলেও তা পরিশোধনের যথাযথ ব্যবস্থা নেই। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে দূষিত জলই ব্যবহার করছে।
এই পরিস্থিতি শুধু গ্রামাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়, শহর এলাকাতেও জল দূষণের অভিযোগ সামনে এসেছে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে সরকারের প্রদত্ত পানীয় জল সেবনে এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মতে, সরকারি হিসেবের থেকে বাস্তব মৃতের সংখ্যার কোনো মিল নেই। বাস্তবে মৃতের সংখ্যা লুকিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। মৃতের পাশাপাশি আহতের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিগত দুই সপ্তাহে শাতাধিক মানুষ জল বাহিত রোগের জেরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র পরিকাঠামো গড়ে তোলা যথেষ্ট নয়, জলের মান নিয়মিত পরীক্ষা, পরিশোধন এবং রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। নচেৎ নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়বে।
