ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জলবাহিত রোগের প্রকোপে পরে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনেরও বেশি। পাশাপাশি শতাধিক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই প্রেক্ষিতে সরকার দায়ভার নেওয়ার বদলে সাধারণ মানুষকেই দুষতে ব্যস্ত। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ জ্ঞানেশ্বর প্যাটেল বলেছেন সব দায়িত্ব সরকারে না। সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে। এর পাল্টা জবাবে কংগ্রেস মুখপাত্র ভুপেন্দ্র গুপ্তা কড়া ভাষায় বিজেপি নেতার সমালোচনা করেছেন।
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে দূষিত পানীয় জল পান করার ফলে একের পর এক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডায়রিয়া, বমি, জ্বরসহ জলবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় অন্তত কুড়িজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই জল থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল এবং রঙ বদলে যাচ্ছিল, বিষয়টি জানানো হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিজেপি সাংসদ জ্ঞানেশ্বর প্যাটেল বলেন, “সরকার সবকিছু একা করতে পারে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে নিজেদের জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার রাখা, জল ঠিক আছে কি না তা নজরে রাখা এবং সমস্যা হলে প্রশাসনকে জানানো”। তাঁর বক্তব্যে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বাড়ি বাড়ি নলবাহিত জল পৌঁছে দেওয়ার কথাও উঠে আসে। তবে একইসঙ্গে নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর দেওয়ায় বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, পানীয় জল সরবরাহ ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। মানুষের মৃত্যু হওয়ার পর নাগরিকদের ওপর দায় চাপানো সম্পূর্ণ অমানবিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বলে তারা দাবি করেছে। বিরোধীদের আরও অভিযোগ, দূষিত জলের বিষয়টি আগে থেকেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় নেমে এসেছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আইনি হস্তক্ষেপও শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট পরিষ্কার পানীয় জলকে নাগরিকের জীবনাধিকারের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছে এবং অবিলম্বে নিরাপদ জল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বিকল্প জল সরবরাহ, পাইপলাইন পরীক্ষা এবং জল পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানানো হলেও আতঙ্ক ও ক্ষোভ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
