ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের থানেতে এক বৃদ্ধাকে কেন্দ্র করে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর সাইবার প্রতারণার ঘটনা। ৮২ বছরের ওই বৃদ্ধা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে খুইয়ে ফেললেন প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একদল সাইবার অপরাধী নিজেদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ওই বৃদ্ধার সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রথমে ফোনে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নামে ইস্যু করা একটি সিম কার্ড নাকি বেআইনি কাজে, এমনকি গত বছর কাশ্মীরের পেহেলগামে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হয়েছে। এই অভিযোগ শুনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। অপরাধীরা সেই ভয়কেই হাতিয়ার করে তাঁকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতে শুরু করে।
এরপর তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে একপ্রকার গৃহবন্দি করে রাখা হয়। ভিডিও কলের মাধ্যমে সারাক্ষণ নজরদারিতে রাখা হয় তাঁকে, যাতে তিনি পরিবারের সদস্য বা অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন। প্রতারকরা তাঁকে বোঝাতে থাকে যে তিনি গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন এবং তদন্তের স্বার্থে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় নেই।
এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বলা হয়, নিজের নির্দোষ প্রমাণ করতে হলে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই করা প্রয়োজন। সেই অজুহাতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতে বলা হয়। ভয় এবং বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে ওই বৃদ্ধা কয়েক দফায় আরটিজিএসের মাধ্যমে মোট প্রায় ৭২ লক্ষ টাকা প্রতারকদের নির্দেশ মতো পাঠিয়ে দেন।
কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা এই প্রতারণার পর ধীরে ধীরে তাঁর সন্দেহ জাগে। বিষয়টি পরিবারের নজরে আসতেই পুরো ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পায়। এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।