ওঙ্কার ডেস্ক: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে রবিবার অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। কেন্দ্রের তরফে সদ্য গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের একাধিক দল তীব্র আপত্তি জানায়। বৈঠকের শুরুতেই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইন্ডিয়া জোটভুক্ত বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা প্রতীকী ওয়াকআউট করেন। তাঁদের অভিযোগ, সংসদীয় রীতি ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করে কেন্দ্র একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিরোধী দলগুলির দাবি, এনসিপিআই এখনও সংসদে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। তা সত্ত্বেও তাদের আলাদা রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা সংসদীয় প্রথার পরিপন্থী। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার বিরোধী রাজনীতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনও দলকে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেন্দ্র একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গিয়েছে, বৈঠকে এনসিপিআই প্রতিনিধিদের জন্য পৃথক আসনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই বিষয়টি সামনে আসতেই বিরোধীদের ক্ষোভ আরও বাড়ে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আপ-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক দলের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।
এনিয়ে সরব হয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এনসিপি দলকে এখনও পর্যন্ত দলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, তাহলে কিভাবে তাঁদের সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হয়। এ বিষয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোষ্ট করে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন জয়রাম রমেশ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর বেহাল অবস্থা তৃণমূলের। সেই ভাঙন এখনও থামছে না। মমতার হাত ছেড়ে ২০ জন সাংসদ নিয়ে এনডিএ গোষ্টীর এক বেনামী দলে নাম লিখিয়েছে কাকলিরা। সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই সর্বদলীয় বৈঠকে এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় আগামী দিনে সংসদের ভিতরেও সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।