ওঙ্কার ডেস্ক: বারানাসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে সাম্প্রতিক পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাশীর অন্যতম প্রাচীন ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাশ্মশানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কিছু পুরনো কাঠামো ভাঙার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের সূত্রপাত। বহু মানুষ দাবি করেন, ঘাট এলাকায় মন্দির বা প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
ঘটনাস্থলে দেখা গেছে মণিকর্ণিকা ঘাটে দীর্ঘদিন ধরেই পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা উঠছিল। সংকীর্ণ পথ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অতিরিক্ত ভিড় ও বর্ষাকালে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির ফলে কাজকর্মে অসুবিধার অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে ঘাট সংস্কার ও আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই কাজের অংশ হিসেবেই পুরনো মাধি ভাঙা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
তবে এই কাজ চলাকালীন কয়েকটি প্রাচীন নকশাযুক্ত পাথরের অংশ, শিবলিঙ্গের ভাঙ্গা অংশ ও মূর্তির ছবি সামনে আসতেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। স্থানীয় কিছু পুরোহিত ও বাসিন্দার অভিযোগ, যথাযথ সতর্কতা না নিয়ে কাজ করায় ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। তাঁদের মতে, মণিকর্ণিকা ঘাট শুধুমাত্র একটি শ্মশান নয়, বরং শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় ইতিহাসের সাক্ষী, যেখানে প্রতিটি কাঠামোর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনও মন্দির ভাঙা হয়নি। তাঁদের দাবি, মূল ধর্মীয় স্থাপনা যেমন মসান মন্দির, তারকেশ্বর ও রত্নেশ্বর মন্দির সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। যে কাঠামোটি ভাঙা হয়েছে, তা সংস্কারযোগ্য নয় এমন একটি সহায়ক অংশ ছিল এবং সেখানে থাকা কিছু প্রতিমা কাজের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলি সংরক্ষণ করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সেগুলি পুনরায় স্থাপন করার কথাও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার মাঝেই সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীর আদিত্যনাথের কথায়, কিছু ছবি কৃত্রিম তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বা ভিন্ন জায়গার ছবি মণিকর্ণিকা ঘাটের বলে প্রচার করা হয়েছে। এই অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এবং কিছু সামাজিক সংগঠন বিষয়টিকে প্রশাসনিক অবহেলা ও ঐতিহ্যের প্রতি অসংবেদনশীলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছে। তাঁদের দাবি, উন্নয়নের নামে প্রাচীন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে এই কাজ নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা ও স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
