ওঙ্কার ডেস্ক: স্ত্রীকে আততায়ীরা খুন করেছে—পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে এমন অভিযোগ জানিয়েছিলেন অনিল কুমার শাহ। তার প্রায় ১০ দিন পর সেই অনিলকেই গ্রেফতার করল পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অনিলই সুপারি কিলার দিয়ে নিজের স্ত্রীকে খুন করিয়ে বাঁচতে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, স্ত্রী মিনা বাপের বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। আর সেটা মেনে নিতে পারেননি অনিল। সেই রাগ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ মে ৩৮ বছর বয়সী অনিল কুমার শাহ পুলিশের কাছে দাবি করেন, অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে টেনেহিঁচড়ে ঝোপের আড়ালে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। তিনি পুলিশকে জানান, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সাঙ্গারেড্ডি জেলার একটি গ্রামের কাছে তাঁদের মোটরসাইকেলটি বিকল হয়ে পড়েছিল এবং সেখানেই ওই হামলার ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানতে পেরেছে ৩৬ বছর বয়সী মিনা দেবীকে ৩০ মে রাতে হত্যা করা হয়। অনিল শুরুতে তদন্তকারীদের বলেছিলেন, তিন ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে। তিনি বাধা দিতে গেলে তারা তাঁর স্ত্রীর গলা কেটে দেয়। সেরিলিঙ্গামপল্লী জোনের ডিসিপি শ্রীনিবাস জানান, প্রায় তিন বছর ধরেই অনিল তাঁর স্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। অনিল যা রোজগার করতে তা কোথায় কতটা খরচ হবে তা নিয়ন্ত্রণ করতেন মিনা। নিজের বাবা-মায়ের কাছেও টাকা পাঠাতেন ওই মহিলা।আর এই বিষয়টি অনিল মেনে নিতে পারেননি। একটি দুর্ঘটনার পর অনিল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁদের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, উপার্জিত টাকা স্ত্রী বাপের বাড়িতে পাঠানোয় অনিলের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সে কারণেই তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিহারের বাসিন্দা সুপারি রিঙ্কু কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অনিল। রিঙ্কু তার দুই সহযোগীকে নিয়ে মিনাকে হত্যা করে। ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে অনিল এবং এক সুপারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি দুজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।