ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে কংগ্রেস। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ এবং প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতিদের নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে দ্রুত বদলে যাওয়া সমীকরণ, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে গত ৮ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া জনবন্ধন’ বৈঠকের পর এই সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সেই বৈঠকে বিরোধী জোটের বিভিন্ন শরিক দল দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আরও সমন্বিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও সেখানে উঠে আসে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে দাবি করেছিলেন, বিরোধী দলগুলির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ফলেই সংসদে সরকারের একাধিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিরোধী জোটকে আরও সুসংহত করার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের কিছু ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দিনে কীভাবে জনমুখী ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখা যায়, তা নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক বার্তা আরও কার্যকরভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
কংগ্রেস নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে কেন্দ্র সরকার সংবিধানের মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং বিরোধী দলগুলিকে চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে। এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানের অভাব, বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়া এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের সংকট নিয়ে দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব ভারতের অর্থনীতির উপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতারা।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবারের বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিকল্পনা এবং বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক মাসে বিরোধী শিবির কী ভূমিকা নিতে চলেছে, সেই দিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।