ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুরে ধান কাটার কাজে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতের নাম বিমল সাঁতরা, বয়স ৫৮ বছর। বাড়ি জামালপুর ব্লকের নবগ্রাম ওড়িশা পাড়ায়। জানা গিয়েছে, কয়েক মাস ধরে তিনি অন্য রাজ্যে কৃষিকাজ করছিলেন। হঠাৎই শরীর খারাপ হলে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে, কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু ঘটে।
যদিও পরিবারের দাবি, বিমলবাবুর মৃত্যু নিছক অসুস্থতার কারণে হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রের ঘোষিত এসআইআর কর্মসূচি নিয়ে ভয় ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে বিমলবাবু বারবার বলছিলেন নিজের নথিপত্র নিয়ে ভয় পাচ্ছেন, যদি কোনও গণ্ডগোল হয় তবে তাঁর নাম বাদ যাবে। এই ভয়ের জেরেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের।
বিমলের ছেলে বাপি সাঁতরা জানিয়েছেন, “বাবা বলতেন, যদি আমার কাগজপত্র ঠিক না থাকে, তাহলে কী হবে? আমি ভয় পাচ্ছি।” এমন কথাই তিনি প্রায়ই বলতেন। পরিবারের দাবি, সেই ভয়ই শেষমেশ তাঁকে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, কেন্দ্রের এই এসআইআর প্রকল্প নিয়ে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু মানুষ নথি যাচাই, নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভুগছেন। তাঁদের মতে, বিমল সাঁতরার মৃত্যু সেই ভয় এবং মানসিক চাপে তৈরি হওয়া এক মর্মান্তিক পরিণতি।
তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের দাবি, এসআইআর নিয়ে কোনও বিভ্রান্তির কারণ নেই, বিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষের মধ্যে ভয় ছড়াচ্ছে।
বিমলবাবুর দেহ বিমানযোগে কলকাতায় আনা হয়, সেখান থেকে গাড়িতে করে জামালপুরের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শান্ত, পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন বিমলবাবু। কাজের জন্য দূর রাজ্যে গিয়েও নিয়মিত বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র গ্রামে।
