ওঙ্কার ডেস্ক: ভিন রাজ্যে ফের বাংলা বলার কারণে অশান্তির মুখে পরল বাংলার তিন যুবককে। জানা গেছে পুর্ব বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ থেকে প্রায় নয় থেকে দশ জন যুবকের একটি দল গুজরাতের সুরাটে কাজের সন্ধানে পাড়ি দিয়েছিল। ১৭ জানুয়ারি শনিবার সেই দল গুজরাতের উদ্দেশ্যে ট্রেন সফর শুরু করার পরই ছত্তিশগড়ে তিন জনকে আটক করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয় আরপিএফ। পরিবার সুত্রে জানা যায় তারা নাকি হিন্দিতে কথা না বলে বাংলায় কথা বলার কারনেই নাকি তাঁদের সঙ্গে এই দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, ওই তিন কিশোর বৈধভাবেই কাজের উদ্দেশ্যে রাজ্যের বাইরে যাচ্ছিল এবং তাদের সঙ্গে কোনও বেআইনি নথি বা সন্দেহজনক কিছু ছিল না। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাংলা ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলতে না পারায় তাদের আলাদা করে নেওয়া হয়। এরপর তাদের রায়পুরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পূর্ব বর্ধমানে উদ্বেগ এবং ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরিবারের লোকজন দাবি করেন, শুধুমাত্র মাতৃভাষায় কথা বলার কারণেই তাদের সন্তানদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। রাজ্যের শাসক দলের একাংশের নেতারা অভিযোগ করেন, ভিন্রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলাভাষী শ্রমিক ও কিশোরদের প্রায়শই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। ভাষার ভিত্তিতে এই ধরনের আচরণ সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে দাবি করা হয়। তাঁদের বক্তব্য, দেশের যে কোনও প্রান্তে নাগরিকদের নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তার জন্য কাউকে আটক করা অনৈতিক।
অন্যদিকে, ভিন্ন মতও উঠে এসেছে। কিছু রাজনৈতিক নেতৃত্বের দাবি, ভাষার কারণে নয়, বরং কিশোরদের বয়স নিয়েই প্রশ্ন ওঠায় তাদের আটক করা হয়েছিল। বলা হয়, তারা নাবালক হওয়ায় বিষয়টি যাচাই করার জন্যই রেল পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। বয়স সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের পর অন্য যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হলেও এই তিনজনকে আলাদা করে রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
আপাতত পরিবারগুলির একটাই দাবি, দ্রুত কিশোরদের নিরাপদে বাড়ি ফেরানো হোক এবং ভবিষ্যতে যাতে ভাষার কারণে কাউকে হয়রানির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ করা হোক।
