ওঙ্কার ডেস্ক: শুক্রবারে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাদেরর শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় মারা গেছে বহু নাগরিক। ইসলামাবাদ প্রথম থেকেই এই হামলার নেপথ্যে ভারতকে দায়ি করে এসেছে। মসজিদের উপর এই হামলা করে দেশের ভিতর সাম্প্রদায়িক ঝামেলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল নয়া দিল্লি, এমন গুরতর অভিযোগ এনেছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু ঐ হামলার মুল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানের টেরোরিজম ইউনিট। পাকিস্তানী মন্ত্রী মহসীন নাকভি জানিয়েছেন এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে আফগানিস্তান এবং এই হামলা পুর্ব-পরিকল্পিত।
ইসলামাবাদের তারলাই এলাকার শিয়া মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালীন ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ত্রিশেরও বেশি মানুষ নিহত এবং দেড়শোর বেশি আহত হওয়ার ঘটনায় সমগ্র পাকিস্তান জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নামাজের সময় আচমকা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে মসজিদের ভেতর ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছুটোছুটি শুরু হয়, আহতদের আর্তনাদে গোটা এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় বহু মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই ইসলামাবাদ পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের খোঁজে অভিযান জোরদার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে হামলার মূল মাস্টারমাইন্ডও রয়েছে এবং তিনি একজন আফগান নাগরিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আইএসের যোগাযোগ রয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, হামলার পরিকল্পনা সীমান্তের বাইরে তৈরি হয়েছিল এবং জঙ্গিরা আগে থেকেই লক্ষ্যস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর বক্তব্য, ধর্মীয় স্থানে আঘাত হেনে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টি করাই ছিল জঙ্গিদের উদ্দেশ্য। ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই হামলার পর ইসলামাবাদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জনবহুল স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছে। এদিকে মসজিদের বাইরে শোকাহত স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে, বহু মানুষ নিখোঁজ আত্মীয়দের খোঁজে হাসপাতাল ও মর্গে ছুটে যান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলতে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে জোর দিচ্ছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পাকিস্তান জুড়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
