ওঙ্কার ডেস্ক: গত কয়েক দিনে ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে ফের সন্দেহজনক ড্রোনের গতিবিধি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায়, বিশেষ করে লাইন অব কন্ট্রোল এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে আকাশে অচেনা উড়ন্ত বস্তুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুণচ, সাম্বা ও রাজৌরি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাতের অন্ধকারে এসব ড্রোন ঘোরাফেরা করতে দেখা যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ড্রোনগুলি সীমান্ত বরাবর চক্কর কাটিয়ে ফের ফিরে গিয়েছে, আবার কিছু ড্রোন ভারতের আকাশসীমায় ঢোকার চেষ্টা করেছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনা ও সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। নজরদারি আরও জোরদার করা হয়, একাধিক এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয় এবং আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি সক্রিয় রাখা হয় যাতে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ বা ক্ষতিকর কার্যকলাপ রুখে দেওয়া যায়।
সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা আরও শক্ত করা হয়েছে এবং যে কোনও সন্দেহজনক নড়াচড়া দ্রুত চিহ্নিত করার জন্য সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না।
এই ড্রোন উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাধিক মহলের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা কেবল সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। অতীতেও সীমান্তে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি কিংবা অবৈধ সামগ্রী পাচারের অভিযোগ উঠেছে, ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় বারবার ড্রোন দেখা যাওয়ার অর্থ হতে পারে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা যাচাই করার চেষ্টা অথবা ভবিষ্যতের কোনও বড়সড় কার্যকলাপের প্রস্তুতি। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। ভারত–পাকিস্তান সীমান্তে ড্রোনের এই নতুন তৎপরতা দুই দেশের মধ্যেকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে, যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
