ওঙ্কার ডেস্ক: সংসদের বাজেট অধিবেশন ২০২৬ আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল লোকসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে। সকাল থেকেই সংসদ ভবনে ছিল রাজনৈতিক তৎপরতা। সরকার ও বিরোধী উভয় শিবিরের সাংসদরা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যে লোকসভা দুপুর দুটো পর্যন্ত মুলতবি হয়ে যায়।
লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে এই ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার জন্য মোট ১৮ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের রূপরেখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে। সেইসব বিষয় নিয়েই শুরু হয় বিস্তারিত বিতর্ক।
অধিবেশনের শুরুতেই বিভিন্ন দলের সদস্যরা বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিরোধীরা মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, সীমান্ত পরিস্থিতি ও কৃষকদের সমস্যা নিয়ে সরব হয়। কয়েক দফায় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে কক্ষের পরিবেশও চড়া হয়ে ওঠে এবং সাময়িক স্থগিতাদেশের ঘটনাও ঘটে।
অন্যদিকে শাসকদল সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বড় মাপের মূলধনী বিনিয়োগের পরিকল্পনার পক্ষে সওয়াল করে। সরকারের দাবি, নতুন বাজেট দেশের প্রবৃদ্ধির গতি আরও ত্বরান্বিত করবে এবং যুবসমাজ ও মধ্যবিত্তের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার জবাব দেবেন বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রীও বাজেট সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেবেন। ফলে অধিবেশনের পরবর্তী পর্ব আরও তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়লেও, দেশের অর্থনৈতিক ও নীতিগত দিশা নির্ধারণে এই অধিবেশন যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
