ওঙ্কার ডেস্ক: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করা হয়েছে। তিনি জানান প্রধানমন্ত্রী তহবিল থেকে মৃত ব্যাক্তিদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে সহয়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য করা হবে।
বুধবার দুপুরে তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি বহুতল গুদামের বড় অংশ আচমকাই ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। ঘটনাস্থলে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হয় ভারী যন্ত্রপাতি, ক্রেন এবং বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম। দীর্ঘ সময় ধরে চলে তল্লাশি অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে একের পর এক শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সকলকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানান মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি। উদ্ধারকাজ চলাকালীন মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এখনও কেউ ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় জানান, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত। কেন্দ্র সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মৃতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের সমস্ত রকম সহয়তার ঘোষণা করেন। তিনি জানান আহতদের সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। এছাড়াও মৃতদের পরিবারদের ১০ লক্ষ এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করেন ম্যখ্যমন্ত্রী।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে। নির্মাণকাজে গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি এবং নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই নয়জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। গোডাউনের মালিক সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে নজরদারি জারি থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর আরও জোর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।