ওঙ্কার ডেস্ক: রবিবার গভীর রাতে রাজধানী দিল্লির উত্তর-পশ্চিম দিল্লির কেশবপুরম এলাকায় পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় গ্রেফতার হল কুখ্যাত ‘গলা-ঘোঁটু’ গ্যাংয়ের এক সদস্য। অপর একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এই গ্যাং দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানী জুড়ে ভয় সৃষ্টি করেছিল বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর আসে গলা-ঘোঁটু গোষ্ঠীর কয়েকজন সক্রিয় সদস্য কেশবপুরমে আত্মগোপন করে আছে। রাতের অন্ধকারে অভিযান চালায় স্পেশাল স্টাফ টিম। সন্দেহভাজনরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে দাবি পুলিশের। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। তাতে এক দুষ্কৃতী আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়। আহত অপর সদস্যকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃত ব্যক্তি কুখ্যাত অপরাধী গোটিয়া গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে চুরি, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র রাখা ও হামলার অভিযোগে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি বন্দুক, একাধিক কার্তুজ ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ফোন থেকে গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
কুখ্যাত গলা ঘোঁটু গোষ্ঠীর সদস্যরা মূলত রাতের বেলায় নির্জন জায়গায় পথচারী বা ট্রাকচালকদের টার্গেট করত। শ্বাসরোধ করে খুন করে তাদের টাকা ও গয়না ছিনিয়ে নেওয়া ছিল এদের প্রধান কাজ। সম্প্রতি দিল্লি ও হরিয়ানার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরপর কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় এদের নাম উঠে আসে।
পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, “গলা ঘোঁটু গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ ছিল। কয়েক মাস ধরে আমরা এদের গতিবিধি নজরে রাখছিলাম। রবিবার রাতে নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। ধৃতদের জেরা করে গোষ্ঠীর মূল মাথাদের খোঁজ চলছে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় কিছু অপরিচিত মুখ ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ফলে পুলিশি তৎপরতা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে স্থানীয়দের। ঘটনার পর গোটা এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত অপরাধীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্য ও তাদের আশ্রয়দাতাদের খোঁজ চলছে।
রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতা রুখতে পুলিশের এই অভিযানকে “বড় সাফল্য” বলেই মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, “এই গ্যাংকে নির্মূল করা গেলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত হবে।”
