ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত বহু বছর আগেই নিজেকে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু সেই সাফল্যের মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পোলিও ভাইরাসের সন্ধান মেলার ঘটনা। পরিবেশগত নজরদারির অংশ হিসেবে সংগ্রহ করা নিকাশি জলের নমুনা পরীক্ষায় পোলিও ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই স্বাস্থ্য প্রশাসনের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, গাজিয়াবাদের একটি জল ও পয়ঃশোধনাগার থেকে নিয়মিত পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই নমুনা পরীক্ষার পর ভ্যাকসিন-ডিরাইভড পোলিও ভাইরাস টাইপ-১-এর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও শিশুর শরীরে পোলিও সংক্রমণ বা পক্ষাঘাতের ঘটনা সামনে আসেনি, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসন গাজিয়াবাদের একাধিক এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জনঘনত্ব বেশি এবং টিকাকরণের হার নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে, সেগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের একাধিক দল গঠন করে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পোলিও টিকা দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাকসিন-ডিরাইভড পোলিও ভাইরাস এমন পরিস্থিতিতে দেখা দিতে পারে যখন দীর্ঘ সময় ধরে ভাইরাস কোনও অঞ্চলে সীমিতভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং টিকাকরণের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। যদিও এটি বন্য পোলিও ভাইরাস নয়, তবুও জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই ভাইরাসও সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য দপ্তর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে সচেতনতামূলক প্রচারও শুরু করেছে। অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সব টিকা সময়মতো দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপের ফলে কোনও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে পোলিওমুক্ত দেশের মর্যাদা বজায় রাখতে এই ধরনের ঘটনার প্রতি সতর্ক নজর রাখা জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, নিয়মিত পরিবেশগত নজরদারি এবং শতভাগ টিকাকরণই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। গাজিয়াবাদের এই ঘটনা সেই সতর্কতার গুরুত্বকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।