ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হয়ে উঠছে। দলের একাংশের বিদ্রোহী সাংসদরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের মত নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি না করে বা অন্য কোন বড় দলে না গিয়ে নিজেদের নয়া দল গড়েছেন তৃণমূলের সাংসদেরা। দলের নাম ন্যাশেনাল সিটিজেন্স্ পার্টি অব ইন্ডিয়া। বিদ্রোহী বিধায়কদেরে পথ অবলম্বন না করে কেন সাংসদেরা এহেন সিধান্ত নিল তার পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
সূত্রের দাবি, দলের একাংশের বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে একটি নয়া রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। দলটির সম্ভাব্য নাম ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পথ বেছে নিলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়িয়ে সাংসদ পদ বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, সৌগত রায়, দোলা সেন, অপরূপা পোদ্দার, শত্রুঘ্ন সিনহা-সহ আরও কয়েকজন সাংসদ মিলে এই দল গড়ছেন।
সূত্রের খবর, এই সাংসদরা প্রথমে লোকসভায় নিজেদের বিদ্রোহী বিধায়কদের মত ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছিলেন। কিন্তু সেই পথে আইনি জটিলতা থাকায় পরে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিকল্প পরিকল্পনা সামনে আসে। এই দলটি বর্তমানে এনডিএ-র শরিক হিসেবেই পরিচিতি পেতে চায়ছে বলে খবর। যদিও এই নেতাদের সকলেই প্রকাশ্যে নতুন দলে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেননি, তবে এই বিদ্রোহী দলের বেশিরভাগ মিটিং বিজেপি মন্ত্রীর বাংলোতে হতে দেখা গেছে।
দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র সঙ্গে কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদের বৈঠকের পর থেকেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, লোকসভায় তাঁদের সংখ্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাঁরা পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করতে পারেন। সেই লক্ষ্যে সাংবিধানিক ও সংসদীয় নিয়মকানুন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের কোনও পৃথক স্বীকৃতি না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সংগঠনে রদবদল শুরু করেছেন এবং বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন নেতার সাংগঠনিক দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে।