ওঙ্কার ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়লো দেশের খয়রাতি রাজনীতি। রাজনীতির এই নব্য প্রবণতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করল দেশের শীর্ষ আদালত। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তামিলনাড়ুর রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। বৃহস্পতিবার এই আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, “দেশের অধিকাংশ রাজ্যে রাজস্ব ঘাটতি সত্ত্বেও খয়রাতির রমরমা চলছে।” মামলাটির শুনানি হয় দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে।
তামিলনাড়ু সরকারের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “দেশে কী ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করছি আমরা?” একই সঙ্গে তিন বিচারপতির বেঞ্চের সংযোজন, “আমরা বুঝতে পারছি, যাঁরা বিদ্যুতের বিল দিতে পারেন না, তাঁদের জন্যই আপনাদের এই উদ্যোগ। কিন্তু কে পারবেন আর কে পারবেন না, তা আলাদা না-করে আপনারা দিতে শুরু করলেন। এটা কি তুষ্ট করার নীতি নয়?”
তামিলনাড়ুতে সর্বস্তরের গ্রাহকদের বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যে পাইয়ে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার থেকে বেরিয়ে এসে কী ভাবে লড়াই চলবে তা নিয়ে নিশ্চয়ই ফাঁপরে পড়তে চলেছে আগামী দিনে রাজ্নৈতিক কর্মকাণ্ড।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কল্যাণের কথা মাথায় রেখে যাঁদের সামর্থ্য নেই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এক কথা, আর ভোটের মুখে নির্বিচার খয়রাতি অন্য। তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ, এ ধরনের প্রকল্পের অর্থ জোগান কোথা থেকে আসবে তা রাজ্যগুলিকে তাদের বাজেটে স্পষ্ট করে দেখাতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক প্রকল্পের প্রসঙ্গ। যেমন, রাজ্য সরকারের বহুল আলোচিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও সাম্প্রতিক যুবসাথীও। যদিও শাসক দলের যুক্তি, এগুলি খয়রাতি নয়, সামাজিক সুরক্ষার অংশ। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর হাতে টাকা পৌঁছে দিলে তা বাজার অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে। কিন্তু সরকারের রাজস্ব যদি তলানিতে ঠেকে তাহলে এর ভবিষ্যৎ কি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি কোনও রাজ্যের নাম না করায় ধরে নেওয়া যেতে পারে দেশের বর্তমান রাজনীতির প্রবণতার দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। তাই আদালতের এই পর্যবেক্ষণ কার্যত গোটা দেশের রাজ্য সরকারগুলির জন্যই প্রযোজ্য। কল্যাণমূলক ব্যয় ও ভোটমুখী খয়রাতির মধ্যে সীমারেখা কোথায়— সেটাই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।
