ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকার দেশের স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমে শীঘ্রই বিস্তৃত যৌনশিক্ষা) চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর পাশাপাশি সম্মতির গুরুত্ব, শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলিকেও শিক্ষার মূল স্রোতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিকল্পনার কথা জানায়।
সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের যৌন নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক শোষণ এবং অনলাইন মাধ্যমে যৌন অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য বয়সভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও বিস্তৃত পাঠ্যক্রম তৈরি করা হচ্ছে। এই পাঠ্যক্রমে শুধু প্রজনন স্বাস্থ্য নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, ব্যক্তিগত সীমানা, নিরাপদ আচরণ, সম্মতির গুরুত্ব, সাইবার নিরাপত্তা এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন চিহ্নিত ও প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, পাঠ্যক্রম তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক পরিপক্বতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ধাপে ধাপে এমনভাবে বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য সহজভাবে বুঝতে পারে। একই সঙ্গে তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করা হবে, যাতে কোনও ধরনের অনভিপ্রেত স্পর্শ, আচরণ বা নির্যাতনের শিকার হলে তারা তা চিহ্নিত করতে পারে এবং দ্রুত অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানাতে পারে। সরকারের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক শিক্ষার প্রসার। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ, লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সুস্থ সম্পর্কের গুরুত্ব সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সঠিক সময়ে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক যৌনশিক্ষা পেলে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নানা ভুল ধারণা দূর হবে। একই সঙ্গে যৌন নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তারা আরও সচেতন হবে এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। এছাড়া সম্মতির গুরুত্ব সম্পর্কে অল্প বয়স থেকেই শিক্ষা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে নারী-পুরুষের প্রতি সম্মান, সমতা এবং দায়িত্বশীল সামাজিক আচরণ গড়ে তুলতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে।