ওঙ্কার ডেস্ক: পরকীয়ার কথা স্বামী জানতে পেরে আপত্তি জানিয়েছিলেন। আর সে কারণেই তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন এক মহিলা। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে পরিকল্পনা করে স্বামীকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে মাটি চাপা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার এক বছর পর সেই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ। রবিবার অভিযুক্ত মহিলা এবং তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। ২০২৫ সালের আগস্টে নভি মুম্বইয়ে হাড়হিম করা এই ঘটনাটি ঘটেছিল।
রাবালে এমআইডিসি পুলিশকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, অভিযুক্তরা গত বছরের আগস্ট মাসে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। নিহতের ভাই নিখোঁজ মামলা দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তকারীরা নিহতের স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার কিনারা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম বালিরাম সূর্যনাথ কুশওয়াহা (৫০)। তিনি নভি মুম্বইয়ের আইরোলির বাসিন্দা ছিলেন। স্ত্রী সুনিতা কুশওয়াহা (৪০) ও দুই সন্তানের সঙ্গে থাকতেন তিনি। তদন্তকারীদের মতে, সুনিতার সঙ্গে রাহুল দশরথ প্রজাপতি (৩০) নামের এক অটো চালকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পুলিশের দাবি, বালিরাম এই সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ার পর তাতে আপত্তি জানান। এরপরই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে ওই যুগল।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান গত বছর ৯ আগস্ট রাতে সন্তানদের আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন সুনিতা। এর পর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বালিরামকে শ্বাসরোধ করে এবং গলা কেটে হত্যা করে। অপরাধের সমস্ত প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য অভিযুক্তরা বালিরামের দেহ তিন টুকরো করে দেহাংশগুলো বস্তায় ভরে দশরথ প্রজাপতির অটোতে করে ‘গাওলি দেব’ পাহাড়ের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। ঘটনার পর সুনিতা তাঁর পারিবারিক বাড়িটি ভাড়া দেন। এর পর সন্তানদের নিয়ে নভি মুম্বাইয়ের ঘনসোলিতে চলে যান তিনি। এদিকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গোপন ছিল। তখন বালিরামের ভাই সুনিতার সঙ্গে দেখা করে তাঁর ভাইয়ের বিষয়ে জানতে চান, কিন্তু সুনিতার কথায় অসঙ্গতি বুঝতে পেরে তিনি নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারি এড়াতে অভিযুক্তরা ঘন ঘন মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড পরিবর্তন করত। তবে কল ডিটেইল রেকর্ড থেকে দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সুনিতা কুশওয়াহা ও রাহুল প্রজাপতি—উভয়েই অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। রবিবার তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা