ওঙ্কার ডেস্ক: ফের মন্দিরে দান পাত্রর বাক্স থেকে চুরি গেল প্রণামী। রামমন্দির থেকে শুরু করে বদ্রিনাথ এরপর উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ মন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের আবহেই,এ বার গুজরাটের বনাসকাঁঠা জেলার অম্বাজি মন্দিরেও প্রণামী চুরির অভিযোগ সামনে এল। সমাজমাধ্যমে একটি পুরনো সিসিটিভি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দানবাক্স থেকে কথিত চুরির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। নেট মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ওঙ্কার বাংলা) সেই ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত এক কর্মী মন্দিরের প্রণামী গণনার কক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা চুরির চেষ্টা করার সময়ে দেখতে পান। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনাটি মে মাসে ঘটে। অভিযুক্ত চিরাগ ঠাকোর সে সময় ভক্তদের প্রণামীর টাকা গণনার সময় একটি নগদের বান্ডিল চুরি করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শৌচাগারে যাওয়ার অজুহাতে গণনার কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্ত পকেট থেকে টাকার বান্ডিলটি পড়ে যায়, যা অন্য কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ঘটনার পরেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই তদন্তে আরও দু’জন আউটসোর্সিং কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগও সামনে আসে। মন্দির প্রশাসন এফআইআর দায়ের করার পর তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনা সম্পর্কে বনাসকাঁঠার জেলাশাসক এবং ‘শ্রী আরাসুরি অম্বাজি মাতা দেবস্থান ট্রাস্ট’-এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি মিহির পটেল জানান, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করতে ট্রাস্ট একটি বিস্তারিত আদর্শ আচরণবিধি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওয়র বা এসওপি) চালু করেছে। তিনি বলেন, “অভিযুক্ত তিন জন কর্মীকেই তখনই অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এর পর প্রণামী গণনার প্রক্রিয়াকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে একটি নতুন এসওপি ঘোষণা করা হয়।’’
প্রথম বদ্রিনাথ মন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনার তদন্তে নজরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। সেই ফুটেজে অভিযুক্তকে প্রণামীবাক্স থেকে টাকা তুলতে দেখা গিয়েছে। তাঁর গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক! প্রণামী চুরির ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্তকারী দলের এক সদস্য সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, ওই ফুটেজকে হাতিয়ার করে তদন্তের গতি বাড়ানো হচ্ছে। বদ্রীনাথ মন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে রয়েছেন প্রমোদ নাটিওয়াল নামে এক ব্যক্তি। তিনি বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) কর্মী ছিলেন। পরে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। তদন্তকারী সূত্রে দাবি, ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজটি গত ২ জুলাইয়ের। ওই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, দান গণনার ঘর থেকে নগদ, সোনা-রুপোর মুদ্রা, শালগ্রাম পাথর, দানের খাম ‘সন্দেহজনক ভাবে লুকোচ্ছেন’ প্রমোদ! পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে গণনাকক্ষ এবং তাঁর অফিসের মধ্যে বার বার যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রমোদ ‘চুরি’ করা নগদ এবং দান সামগ্রী লুকিয়ে রাখছিলেন নিজের অফিসে। শনিবার উত্তরাখণ্ড পুলিশ বলেছে, ‘‘অভিযুক্ত প্রমোদ নাটিওয়ালকে সন্দেহজনক ভাবে ৫০০ এবং ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল, সোনা-রুপোর মুদ্রা, শালগ্রাম পাথর এবং আনুমানিক ১০-১২ হাজার টাকার নৈবেদ্যের খাম লুকোতে বা চুরি করতে দেখা গিয়েছে।’’