ওঙ্কার ডেস্ক: লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিল তামিলনাড়ুর বিজয় সরকার। বুধবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় লোকসভার আসনসংখ্যা এবং রাজ্যভিত্তিক আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়ে বিশেষ প্রস্তাব পেশ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকারের বক্তব্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ার কারণে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কোনওভাবেই কমানো যাবে না।
বিধানসভায় প্রস্তাব পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় স্পষ্ট করে দেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির অধিকার খর্ব করা মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর সরকারের দাবি, লোকসভার মোট আসনসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩-তেই রাখা হোক এবং বর্তমানে যে অনুপাতে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে আসন বণ্টন রয়েছে, সেটিও বজায় রাখা হোক। তামিলনাড়ু সরকারের মূল যুক্তি হল, দেশের দক্ষিণের রাজ্যগুলি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। পরিবার পরিকল্পনা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই রাজ্যগুলি তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করেছে। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি জনসংখ্যার পরিসংখ্যানকে প্রধান ভিত্তি করে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়, তাহলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের অনুপাত কমে যেতে পারে। রাজ্য সরকারের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সাফল্যই কার্যত রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এই কারণেই তামিলনাড়ু সরকার মনে করছে, শুধু জনসংখ্যার হিসাবের ভিত্তিতে লোকসভা আসন বাড়ানো বা কমানো যুক্তিযুক্ত নয়। এতে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির লোকসভায় আসনের অনুপাত কমে গেলে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবও তুলনামূলকভাবে কমতে পারে। এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই বর্তমান ৫৪৩টি আসন এবং রাজ্যভিত্তিক বণ্টন বজায় রাখার দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে আরও জোর দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর। আসন পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও তামিলনাড়ু সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন এবং সেই উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত। তবে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে গিয়ে যেন লোকসভায় রাজ্যগুলির বর্তমান প্রতিনিধিত্বের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।