ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতার তপসিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের অভিযোগ থাকা এক পাকিস্তানি নাগরিককে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেফতার করল বেঙ্গল এসটিএফ। ধৃতের নাম রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-ঘনিষ্ঠ একটি চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকতে পারে। বিষয়টি সামনে আসতেই কলকাতায় তাঁর গতিবিধি, পরিচয় এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, রানা বেশ কিছুদিন ধরে কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে ছুতোর মিস্ত্রির কাজ করতেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়ভাবে বসবাসের সুবিধার জন্য তিনি ভারতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে সেই আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড ভুয়ো বলে উঠে এসেছে। কীভাবে ওই নথি তৈরি করা হয়েছিল এবং কার সাহায্যে তিনি ভারতীয় পরিচয় ব্যবহার করছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন রানা। এরপর কলকাতায় এসে তপসিয়া এলাকায় ঘাঁটি তৈরি করেন। কয়েক মাস ধরে সেখানে থাকার পর আচমকাই তাঁর গতিবিধি বদলে যায়। কলকাতা ছেড়ে তিনি বনগাঁ সীমান্তের দিকে চলে যান। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে বেঙ্গল এসটিএফ। কেন তিনি সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন, তা এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, গ্রেফতারির আগে রানা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার সীমান্ত এলাকায় তাঁর কোনও নির্দিষ্ট যোগাযোগ বা সহযোগী ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সীমান্তে যাওয়ার আগে এবং পরে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। রানার কাছ থেকে পাওয়া নথি এবং অন্যান্য সামগ্রীও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কি না। বিশেষ করে বিদেশি নম্বরে ফোন, মেসেজ কিংবা অনলাইন যোগাযোগের কোনও সূত্র পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।