ওঙ্কার ডেস্ক: ‘এই শিশুদের বাবা-মা নেই। দয়া করে এদেরকে ইয়াভাতমালগামী একটি বাসে তুলে দিন।’ বাসের মধ্যে কাঁদতে থাকা এক শিশুর পকেট থেকে উদ্ধার হয় এমন লেখা চিরকুট। শুধু ওই শিশু একা ছিল না, বাসে তারই সঙ্গে ছিল তার এক ভাই বা বোন। এই দুজনকেই তাদের মা বাসে ফেলে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন। চিরকুটটিতে একটি মোবাইল নম্বরও ছিল। সেই নম্বরে ফোন করে অবশেষে ঘটনার কিনারা করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিরকুটে থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয় । অনুসন্ধানে জানা যায়, শিশুদের ফেলে রেখে তাদের মা প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছে। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য পালিয়ে যাওয়ার আগে ওই মহিলা তার বাবার কাছ থেকে বেশ কিছু টাকাও চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে গত ৩০ এপ্রিল, মহারাষ্ট্রের ইয়াভাতমালের এক বৃদ্ধ তার মেয়ের বিরুদ্ধে টাকা ও স্কুটার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের কয়েকদিন পর, পুলিশ তাকে বীডে ডেকে পাঠায়। ওই বৃদ্ধ আর কেউ নন, প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া মহিলার বাবা। অর্থাৎ বাস থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর দাদু।
তদন্তে জানা গেছে, ওই নারী তাঁর দুই সন্তানকে পান্ধারপুর-সম্ভাজি নগর বাসে বসিয়ে, বাবার কাছ থেকে যে স্কুটার চুরি করেছিলেন তাতে চেপে প্রেমিকের সঙ্গে চলে যান। বিড পৌঁছানোর পর, বাসের কন্ডাক্টর শিশুদের দেখতে পান এবং তাদের একজনের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেন। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুদের দাদু বিড থানায় যখন আসেন, তখন তিনি দুই শিশুর চেয়ে তাঁর স্কুটার নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিলেন। অভিযোগ, ওই বৃদ্ধ তাঁর নাতি-নাতনিদের সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো আগ্রহই দেখাননি। শুধু তাই নয়, তিনি শিশুদের দায়িত্ব নিতেও অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশ শিশুদের যত্ন সুনিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছে। বর্তমানে বিড শিশু কল্যাণ কমিটি এবং জেলা প্রশাসনের সহায়তায়, দুই শিশুকে একটি ‘শিশুগৃহে’ ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদেরকে পরিচর্যা করা হচ্ছে।