ওঙ্কার ডেস্ক: অসমের কার্বি আংলং জেলায় নতুন করে অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও উপজাতি স্বার্থ রক্ষার দাবিকে ঘিরে এই উত্তেজনা ধীরে ধীরে সহিংস রূপ নেয়। কার্বি আংলং এবং পশ্চিম কার্বি আংলং এলাকায় উপজাতি সংগঠনগুলির অভিযোগ, বহিরাগত ও অউপজাতিদের বেআইনি বসতি গড়ে ওঠায় তাদের জমি ও অধিকার হুমকির মুখে পড়েছে। এই দাবি সামনে রেখেই সাম্প্রতিক দিনে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়।
ঘটনার সূত্রপাত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। জমি সংক্রান্ত দাবিতে কয়েকজন আন্দোলনকারী অনশন শুরু করেন। এরই মধ্যে এক অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেই ঘটনাকে ঘিরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে আসে এবং দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দোকানপাট ও বাজারে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এই অশান্তির মধ্যে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং একাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পুলিশকর্মীরাও রয়েছেন।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। কার্বি আংলং ও পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের বক্তব্য, গুজব ও উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানো আটকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও ভয়েস কল ও ল্যান্ডলাইন ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কার্যত কার্ফু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় উপজাতি নেতা ও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের আশ্বাস, আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকেই এগোনো হবে।
