ওঙ্কার ডেস্ক: ভূটান সফর শেষ করেই দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি লাগাতার তদন্ত চালালেও, ঘটনার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, তদন্তকারী সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা এবং সেনা গোয়েন্দা বিভাগের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, ‘‘এই বিস্ফোরণ নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদী হামলা।’’ তাঁর এই মন্তব্যের পর মন্ত্রিসভার সদস্যরাও সেই অবস্থানকে সমর্থন জানান।
সরকারি সূত্রের দাবি, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বিস্ফোরণের তদন্তে পাওয়া নতুন সূত্র, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী সংগঠনের ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্র নিয়েও। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের জেরা শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে উঠে আসছে যে, একটি সংগঠিত চক্র এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল, যারা নিজেদের ‘হোয়াইট কালার সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে অর্থ, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কাজ চালাচ্ছে। সরকারের আশঙ্কা, এই নেটওয়ার্ক দেশের অভ্যন্তরেই ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং তাদের লক্ষ্য হতে পারে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে নষ্ট করা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এমন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘‘ভারত কখনও সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় না, বরং প্রতিটি আক্রমণের জবাব দৃঢ়তার সঙ্গে দিয়েছে।’’ এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে তাহলে কি ফের প্রতিঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত? প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং সংবেদনশীল রাজ্যগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরাসরি প্রতিঘাতের কথা উল্লেখ করেনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।
অন্যদিকে, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হচ্ছে। বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, কংগ্রেস সরকারের সময়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দুর্বল নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, যার ফলেই আজ দেশের অভ্যন্তরে এমন হামলা ঘটছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের একাংশের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে কংগ্রেস বরাবরই দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা নিয়েছে। কংগ্রেস অবশ্য পাল্টা যুক্তি দিয়েছে যে, বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে ঢাকতেই এখন সন্ত্রাসবাদ ইস্যু তুলে জনগণের আবেগ উস্কে দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় বিজেপি এই ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আবেগ জাগিয়ে তুলতে চাইছে। মোদির বক্তব্য ও মন্ত্রিসভার প্রতিক্রিয়া সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত তাদের। বিজেপি চাইছে, দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় নিজেদের অবস্থান আরও মুজবুত করা।
