ওঙ্কার ডেস্ক: মেয়ে হয়ে জন্মানোর অপরাধে তাঁকে জীবন্ত মাটির নীচে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। রাজস্থানের সেই কন্যা বর্তমানে দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন লোকনৃত্যে। ২০১৬ সালে তাঁকে ভারত সরকার পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করে। ২০২১-এ পান ভারত গৌরবও। কথা হচ্ছে গুলাবো সাপেরাকে নিয়ে। ভারতের বিস্ময় এই কন্যাকে নিয়ে দেশ শুধু গর্বিত নয়, তাঁর কাছে ঋণীও। কারণ তিনি আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
১৯৭৩ সালে গুলাবোর জন্ম রাজস্থানের কালবেলিয়া সম্প্রদায়ে। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজে যেখানে মেয়েদেরকে হীন চোখে দেখা হয়, সেখানে গুলাবোও সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাদ যাননি। পরিবারে সপ্তম সন্তান এবং চতুর্থ কন্যা তিনি। সমাজ তাঁকে বোঝা মনে করে, কারণ তিনি কন্যা। আর সে কারণে জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জীবন্ত অবস্থায় মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। গুলাবোর বাবা পেশায় সাপুড়ে। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না বাড়িতে। মেয়েকে যে নীরবে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে তা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি গুলাবোর মা। কয়েক ঘন্টা পরে তিনি মাটি খুঁড়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। কিন্তু জীবনের অদ্ভূত শক্তি গুলাবোর মাকে হতাশ করেনি। জীবিত অবস্থায় গুলাবোকে উদ্ধার করার পর জীবন চলতে থাকে নিজস্ব ছন্দে। গুলাবো বড় হতে থাকেন। তাঁর বাবার বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে তিনি সাপের মতো শরীর দুলিয়ে নৃত্য করা রপ্ত করে ফেলেন। ক্রমে গুলাবোর সেই শারীরিক ছন্দ রূপ পায় কালবেলিয়া নৃত্যশৈলীর। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে দুনিয়ার আঙিনায় তাঁর নৃত্য প্রশংসিত হতে থাকে।
১৩ বছর বয়সে গুলাবো মার্কিন মুলুকে পারফর্ম করেন। সে সময় মহারানি গায়ত্রী দেবী তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। পরে কালবেলিয়া নাচের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন গুলাবো। সেই সঙ্গে তাঁর হাত ধরে কালবেলিয়া নাচ অর্জন করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বর্তমানে গোটা বিশ্বে তাঁর অসংখ্য অনুরাগী ও ভক্ত রয়েছে। ডেনমার্কে, জয়পুর ও পুষ্করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ডান্স ইনস্টিটিউট। প্রসঙ্গত ২০১০ সালে ইউনেস্কো কালবেলিয়া নৃত্যকে ‘ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি’-র স্বীকৃতি দিয়েছে।
