মাঝ আকাশে মৃত্যুকে হারিয়ে ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচানো ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে এবার ‘হিরো’ আখ্যা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। শনিবার ফোনে স্মিতের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ফোনালাপে তিনি স্মিতকে গোটা বিশ্বের ‘হিরো’ বলে মন্তব্য করেন। পাশাপশি ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্মিতকে মশাল জ্বালানোর জন্য আমন্ত্রণও জানান নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু ফোনে স্মিতকে বলেন, “আপনি ইজরায়েল, ভারত এবং গোটা বিশ্বের হিরো। আমি আপনাকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল জ্বালানোর জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এটা ইজরায়েলের সর্বোচ্চ সম্মান। সাধারণত এটা শুধু ইজরায়েলের নাগরিকদের জন্যই রাখা হয়, কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে গোটা ইজরায়েলের মানুষ আপনাকে আপন করে নেবে।” একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ইজরায়েলে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটে ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। অভিযোগ, ওমানি সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে থাকা কুড়ুল দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিতের উপর হামলা চালায় এবং বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করে। হামলার জেরে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায় এবং হাইজ্যাকের জরুরি সংকেত পাঠায়। রক্তাক্ত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন, তখনই যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন।
ফোনে কী হয়েছিল জানতে চান নেতানিয়াহু। জবাবে স্মিত পুরো ঘটনাটি জানান। তিনি বলেন, “সহকারী পাইলট নামাজ পড়ার কথা বলে পিছনে গিয়েছিল। আমি সামনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ মাথার পিছনে একটা বড় আঘাত অনুভব করি। প্রথমে ভেবেছিলাম বিমানের কিছু হয়েছে। কিন্তু পরপর আঘাত আসতে থাকায় বুঝতে পারি এটা বিমান নয়, ককপিটে থাকা অন্য লোকটাই আমাকে মারছে। প্রথম আঘাতেই আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল।”
স্মিত আরও বলেন, “একবার দরজা খোলার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ও বন্ধ করে দেয়। তখন মনে হয়েছিল, এটাই আমার শেষ লড়াই। যদি না করি, আমি মারা যাব। তখনই সর্বশক্তি দিয়ে দরজার দিকে ধাক্কা দিই এবং খুলে দিই।”
স্মিতের মুখে এই বর্ণনা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে যান নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, অসম্ভব পরিস্থিতিতেও আপনার সাহস এবং ঠান্ডা মাথার বিচার দেখে আমি অবাক। আপনি এতগুলো জীবন বাঁচিয়েছেন। আপনার স্ত্রীকে আমার এবং আমার স্ত্রীর তরফ থেকে শুভেচ্ছা জানাবেন। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।”
এর আগে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, আহত পাইলট, যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা মিলে আরেকটা ৯/১১-এর মতো ভয়াবহ ঘটনা আটকে দিয়েছেন।