ওঙ্কার ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের নবনিযুক্ত মেয়র জোহরান মামদানি ভারতের কারাবন্দি সমাজকর্মী ও প্রাক্তন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক উমর খালিদের উদ্দেশে একটি চিঠি লেখায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লির তিহার জেলে বন্দি উমর খালিদের প্রতি এই ব্যক্তিগত বার্তায় সহমর্মিতা, স্মরণ এবং নৈতিক সমর্থনের প্রকাশ ঘটেছে, যা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে জোহরান মামদানি উমর খালিদের চিন্তাভাবনা ও লেখার প্রসঙ্গ টেনে এনে উল্লেখ করেন, কীভাবে তিক্ততা বা হতাশাকে নিজের ভেতরে গ্রাস করতে না দেওয়ার কথা উমর বারবার বলেছেন। সেই ভাবনাগুলি আজও তাঁকে প্রভাবিত করে বলে চিঠিতে জানান নিউ ইয়র্কের মেয়র। পাশাপাশি উমর খালিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করে তিনি লেখেন, উমরের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ অর্থবহ ছিল এবং উমর একা নন, বহু মানুষ তাঁকে মনে রাখছেন ও তাঁর কথা ভাবছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা মামলায় সন্ত্রাসবাদ দমন আইন ইউএপিএ-র আওতায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই উমর খালিদ দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং জামিন না পাওয়া নিয়ে দেশ-বিদেশে মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রের পক্ষ থেকে এমন ব্যক্তিগত বার্তা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জোহরান মামদানি নিজেও মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে সরব হিসেবে পরিচিত। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মার্কিন রাজনীতিবিদের চিঠিকে অনেকেই নিছক সৌজন্য নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায্য বিচারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সংহতির এক প্রতীক হিসেবে দেখছেন। উমর খালিদের সঙ্গীর মাধ্যমে চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেখানে বহু মানুষ এই বার্তাকে সাহস ও সহমর্মিতার নিদর্শন বলে অভিহিত করেন।
