মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজ্যজুড়ে সক্রিয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। একদিকে, বজবজে পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে ভোররাত থেকে শুরু হয়েছে তল্লাশি। অন্যদিকে মঙ্গলবার ভোর থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে এক কৃষকের বাড়িতেও হানা দেয় NIA-র দল। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জোড়া অভিযানে জেলায় জেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বজবজে ভোর ৫টায় হানা, পলাতক সাহারুলের খোঁজ:
সূত্রের খবর, প্রথম অভিযানটি বজবজ থানার বলরামপুর চাকাতলা শেখপাড়ায় শুরু হয়। পলাতক অভিযুক্ত সাহারুল পুরকায়েতের খোঁজে মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৫টা নাগাদ তার শ্বশুরবাড়িতে হানা দেন NIA আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বজবজ থানার পুলিশও। তদন্তকারী সূত্রে খবর, এর কয়েক ঘণ্টা আগে গভীর রাতে বজবজের মিঠাপুকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেখ মহম্মদ জুম্মা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে NIA। বজবজ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতেই তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সংস্থা।
তারপরই সাহারুলের খোঁজে বলরামপুরে অভিযান। তবে বাড়িতে ছিলেন না সাহারুল। তাঁকে না পেয়ে শ্বশুরবাড়ি-সহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাহারুল স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। তার স্ত্রীর দাবি, এর আগেও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে সাহারুল গ্রেফতার হয়েছিলেন, পরে জামিনে মুক্তি পান। তবে এবার কী কারণে NIA খোঁজ করছে, তা পরিবারের জানা নেই। ডায়মন্ড হারবারের রঘুনাথপুরে সাহারুলের ননদের বাড়িতেও খোঁজ চালানো হয়েছে। এখনও বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
দক্ষিণ দিনাজপুরে কৃষকের বাড়িতে NIA হানা:
অন্যদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার কুসকারী এলাকায় কৃষক মিজানুর রহমানের বাড়িতে হানা দেয় NIA-র চার সদস্যের দল। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি। স্থানীয়দের দাবি, মিজানুরের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে উচ্চশিক্ষার জন্য দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকেন এবং UPSC-র প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে কী কারণে তার বাড়িতে তল্লাশি, কী নথি বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে NIA-র তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে ভোর থেকে পরপর দুই জেলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযানে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তুঙ্গে। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে NIA।