ওঙ্কার ডেস্ক: ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলিচালনার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৩ জন মার্কিন সেনা। ওই হামলায় দোষী সাব্যস্ত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার পেন্টাগনের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার কোনও মার্কিন সেনাকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেই মৃত্যুদণ্ডের লাইভ সম্প্রচার করা হবে। মার্কিন নিরাপত্তা সচিব পিট হেগসেথের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদী হামলা ঠেকাতে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে।
একটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেগসেথ জানান, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হাসান দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। ফোর্ট হুডে হামলা চালিয়ে একাধিক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছিলেন তিনি। হেগসেথ আরও জানিয়েছেন, ফোর্ট হুডেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। যে সময়ে হামলা চালানো হয়েছিল, সেই সময়কেই বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফায়ারিং স্কোয়াডের সেনারাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন।
অন্য দিকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং সেই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেও কাউকে প্রকাশ্যে হত্যা করার দৃশ্য সম্প্রচার করা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁদের আশঙ্কা, এই ধরনের পদক্ষেপ হিংসাত্মক মনোভাবকে আরও উসকে দিতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই সমালোচনা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।