ওঙ্কার ডেস্ক: গ্রেটার নয়ডার ভয়ঙ্কর পণ-নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। ২৮ বছরের তরুণী নিক্কি ভাটিকে স্বামী বিপিন ভাটি ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা নৃশংসভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ। মারধরের পর তাঁর শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ভয়ঙ্কর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিল দম্পতির ৬ বছরের সন্তানও। শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে প্রতিবেশীদের জানিয়েছে, মায়ের গায়ে কিছু ঢালা হয়, তারপর মারধর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিক্কির শরীরে আগুন ধরার পর সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে তাঁর দগ্ধ অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসার দৃশ্য। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেই রাতেই মৃত্যু হয় নিক্কির। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় স্বামীর পরিবারের দাবি মতো স্করপিও গাড়ি, নগদ টাকা ও পরবর্তীতে বুলেট বাইক দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি নিক্কির বাবা একটি মার্সিডিজ কিনেছিলেন, সেই গাড়ি চাইছিল বিপিন। দাবি পূরণ না হওয়াতেই নিক্কিকে বারবার নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
অভিযোগ দায়ের করেন নিক্কির বোন কাঞ্চন, যিনি বিপিনের ভাই রোহিতের স্ত্রী। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বিপিন ও মা দয়া ভাটি মিলে নিক্কিকে ভয়ঙ্করভাবে মারধর করার পর আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশি তদন্তে প্রমাণ হিসেবে দাহ্য পদার্থ ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
অভিযুক্ত স্বামী বিপিনকে গ্রেফতার করা হলেও রবিবার সিরসা চৌরাস্তার কাছে তদন্তের স্বার্থে নিয়ে যাওয়া হলে পালানোর চেষ্টা করে সে। অভিযোগ, পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে পিস্তল কেড়ে নিয়ে দৌড় দেয় বিপিন। বারবার সতর্ক করার পরও থামেনি সে। শেষমেশ পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। গুলি গিয়ে লাগে বিপিনের পায়ে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে, বিপিনের বাবা-মা ও ভাই এখনও পলাতক।
মেয়ের মৃত্যুতে বিধ্বস্ত নিক্কির বাবা পুলিশের এনকাউন্টারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অপরাধীরাই সব সময় পালাতে চায়, বিপিনও তাই করেছে। তবে শুধু বিপিন নয়, তার বাবা-মা এবং ভাইকেও দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। প্রয়োজনে এনকাউন্টার করে শাস্তি দেওয়া হোক। তিনি আরও দাবি করেছেন, এই নৃশংস পরিবারের বাড়িতে বুলডোজার চালানো হোক, না হলে পরিবার অনশনে বসবে।
নিক্কির মৃত্যুর ভিডিও এবং পরিবারের ক্ষোভ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
