ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারে ভোট যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘোষণার কৌশলী কারিগর হয়ে উঠছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। চলতি নির্বাচনী মরসুমে বিহারে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর যেন কোনও জনহিতকর প্রকল্প তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে চমকে দিচ্ছে নীতীশ প্রশাসন। শুক্রবার সকালে শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা তারই সর্বশেষ সংযোজন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মিড ডে মিল প্রকল্পে নিযুক্ত রাঁধুনিদের সাম্মানিক একধাক্কায় দ্বিগুণ করে ৩৩০০ টাকা করা হয়েছে, যা এতদিন ছিল মাত্র ১৬৫০ টাকা। একইভাবে, স্কুলে নিযুক্ত নাইট গার্ডদের মাসিক ভাতা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে সামান্য সাম্মানিকেই কাজ করে যাওয়া এই কর্মীরা এবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে আশা। শুধু রাঁধুনি বা গার্ড নন, শারীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতনেও দ্বিগুণ বৃদ্ধি হয়েছে। আগে তাঁরা পেতেন মাসে ৮ হাজার টাকা, এখন থেকে পাবেন ১৬ হাজার টাকা। বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের অঙ্কটাও বেড়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাস থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত কর্মীরাও বাদ যাননি মুখ্যমন্ত্রীর নজর থেকে। কিছুদিন আগেই আশাকর্মীদের সম্মানভাতা তিনগুণ করে মাসে ৩০০০ টাকা করা হয়। মমতা কর্মীদের ক্ষেত্রেও ডেলিভারি-পিছু ভাতা দ্বিগুণ করে ৬০০ টাকা করা হয়েছে।
চমক এখানেই শেষ নয়। নীতীশ সরকারের দয়ায় এবার কলম ধরেও মিলবে বেশি পেনশন। বিহারে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে মাসে ১৫ হাজার টাকা। সেইসঙ্গে, তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের স্ত্রীকে আজীবন মাসে ১০ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়ারও ঘোষণা করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তকে কেউ বলছেন সততার পুরস্কার, কেউ আবার ভোটের আগে নিপুণ চালে জনমোহিনী খেলা।
রাজ্যের নারীদের জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ, প্রবীণ নাগরিকদের ভাতা বৃদ্ধি, এবং ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল মকুব সব মিলিয়ে নীতীশ কুমারের ঘোষণা-তালিকা রীতিমতো দীর্ঘ এবং গণমুখী। প্রতিটি স্তরে জনমতের গায়ে হাত বুলিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত ভিত গড়ার কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তবে প্রশ্ন একটাই এই দয়াবান রূপে জনসমর্থন আদায়ের কৌশল আদৌ কতটা কার্যকর হবে? আর ভোটের পরে কী এই উদারতা টিকে থাকবে? এখন সেই উত্তর সময়ের হাতে। তবে আপাতত বিহারবাসী খুশি। কারণ ভোটের বাজারে যে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং কল্পতরু হয়ে উঠেছেন।
