ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের একবার নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে মন্তব্য করে শিরোনাম। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এ বছর তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনাকে “খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।” তবে সেই সঙ্গে পুরনো দাবি ফের উত্থাপন করেন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষ তাঁর হস্তক্ষেপেই থেমে গিয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর হওয়ায় পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছিল। তিনি নাকি ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে উভয় পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, যাতে যুদ্ধের সম্ভাবনা রোধ হয়। তাঁর কথায়, সেই পদক্ষেপই একটি বড় পরমাণু যুদ্ধের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করেছিল। শুধু ভারত-পাকিস্তান নয়, গত নয় মাসে অন্তত আটটি যুদ্ধ তিনি থামিয়েছেন বলেও দাবি করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার মধ্যে গাজা সংঘর্ষের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “কমিটি কী করবে জানি না, কিন্তু এত অল্প সময়ে এত যুদ্ধ কেউ থামাতে পারেনি।” তাঁর বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট, যদিও এর কোনও স্বাধীন প্রমাণ সংবাদমাধ্যমে মেলেনি।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংঘাত, যেখানে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার সৈন্য মারা যাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, তিনি দ্রুত সেই যুদ্ধেরও অবসান ঘটাবেন। ট্রাম্পের কথায় ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে যুদ্ধে মদত দিচ্ছে। সে কারনে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করতে ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে গাজায় গিয়ে বন্দি মুক্তির আলোচনায় অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। নিজেকে বিশ্বশান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি। যদিও অতীতে ভারত একাধিকবার স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের কূটনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত তারা নেয়। ফলে ট্রাম্পের দাবি বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
