ওঙ্কার ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার পর থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও আবার ঘুরে ফিরছে এই প্রসঙ্গে। ভেনেজুয়েলার স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর লড়াই চালিয়ে গিয়ে মাচাদো এখন সেই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। আর সেই মাদুরো-বিরোধিতাতেই যেন এক অদ্ভুত যোগসূত্র তৈরি হয়েছে মাচাদো ও আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে।
যদিও ট্রাম্প এবং মাচাদো দু’জনের রাজনৈতিক মতাদর্শ ও পরিবেশ একেবারেই আলাদা, তবুও দু’জনেরই লক্ষ্য ছিল এক মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো। ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে ট্রাম্প সরকার মাদুরো সরকারকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালিয়েছিল। অন্যদিকে, মাচাদো নিজ দেশের মাটিতে মাদুরোর বিরুদ্ধে নাগরিক আন্দোলনের মুখ ছিলেন। মাদুরোর সরকারের রোষে বহুবার তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়, তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তবুও তিনি পিছিয়ে যাননি।
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার রাতের অভিজ্ঞতা নিয়েও সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন মাচাদো। তিনি জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ ফোন আসে নরওয়ের নোবেল ইনস্টিটিউট থেকে। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে যে তিনিই ২০২৫ সালের শান্তি পুরস্কার বিজয়ী। প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। পরে আবেগে ভেসে ওঠেন। মাচাদোর কথায়, এই পুরস্কার কোনও ব্যক্তিগত গৌরব নয়, এটি সমগ্র ভেনেজুয়েলার মানুষের সংগ্রামের স্বীকৃতি। “এটি তাদের জন্য, যারা স্বাধীনতা আর গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখে” বলেছেন মারিয়া কোরিন মাচাদো।
এদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর মাচাদো তাঁকে ফোন করে নাকি জানিয়েছেন যে তিনি এই সম্মান তাঁকে উৎসর্গ করছেন। ট্রাম্পের দাবি, মাচাদোর সংগ্রামের পথে তিনিও নাকি একসময় সাহায্য করেছিলেন এবং তাঁর প্রচেষ্টাই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে মাচাদো নিজে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। বরং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার কোনও এক ব্যক্তির জন্য নয়, এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের আন্দোলনের প্রতীক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য হয়তো তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক প্রচারের অংশ মাত্র। অন্যদিকে, মাচাদোর পুরস্কার ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। মাচাদোর দৃঢ় অবস্থান, সাহস এবং অদম্য মানসিকতাই তাঁকে আজ লাতিন আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী নারী নেত্রীর আসনে বসিয়েছে।
