ওঙ্কার ডেস্ক: মাত্র পাঁচ মাসের দাম্পত্য জীবনেই নরকযন্ত্রণার শিকার হলেন উত্তরপ্রদেশের এক গৃহবধু। অভিযোগ, স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা প্রতিদিন অন্তত তিন ঘণ্টা শরীরচর্চা করতে বাধ্য করত তাঁকে। একদিনও শরীরচর্চা না করলে খাবার থেকে বঞ্চিত হতে হতো। কারণ স্বামী মনে করতেন, সহজেই তিনি বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফতেহির মতো সুন্দরী সঙ্গী পেতে পারেন। তাই নিজের স্ত্রীকে নোরা ফাতেহির মত বানাতে চেয়েছিলেন।
অভিযোগকারী তরুণী শানু ওরফে শানভি (২৬), চলতি বছরের ৬ মার্চ, গাজিয়াবাদের বাসিন্দা শিবম উজ্জ্বলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। শানুর পরিবারের দাবি, এই বিয়েতে খরচ হয় প্রায় ৭৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে থাকে ১৬ লক্ষ টাকার সোনার গয়না, ২৪ লক্ষ টাকার মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়ি এবং ১০ লক্ষ টাকা নগদে দেওয়া। কিন্তু বিয়ের পরই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন। অভিযোগ, শ্বাশুড়ি প্রথম থেকেই শানুকে ঘরের কাজকর্মে ব্যস্ত রাখতেন, স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হতো না। বাইরে যাওয়া ছিল নিষিদ্ধ। শানুর বক্তব্য, তাঁর স্বামী শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক হলেও স্বভাবে তিনি লম্পট। প্রায়ই ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে অশ্লীল ভিডিও দেখতেন বলেও অভযোগ। শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে অকথ্য গালাগাল দেন। শানুর অভিযোগ, ‘‘উচ্চতা এবং ফর্সা গায়ের রং থাকা সত্ত্বেও আমাকে শরীর নিয়ে অপমান করা হতো। স্বামী বারবার বলত, আমি নাকি কুৎসিত, মোটা, আর তার জীবনে আমি বোঝা।’’
শানু আরো অভিযোগ তোলেন, শানুর শ্বশুর হঠাৎ যেকোনও সময়ে তাঁর শোবার ঘরে ঢুকে পড়তেন। জিজ্ঞেস করলে বলতেন, ছেলেকে দেখতে এসেছেন। স্বামীর হাতে মার খাওয়ার পর অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টে নতুন জামাকাপড় ও ওভেন টোস্টার গ্রিলার (ওটিজি) নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয় শানুর বাবার বাড়ি থেকে। এছাড়া নিয়মিত আরও টাকা, জমি, গয়না ও দামি পোশাকের দাবিও তুলতেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দাবি পূরণ না করলে তাঁকে মানসিক নির্যাতন করা হতো।
শানু আরও জানান, স্বামীকে অন্য এক মহিলা, মাহি নামে পরিচিত কারও সঙ্গে অনলাইন চ্যাট করতে দেখেন। প্রতিবাদ করতেই শিবম থাপ্পড় মারেন তাঁকে। এমনকি শানুর ভাইকে বিনা কারণে অপমান করার পর বৌদিকে জোর করে স্বামীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন শাশুড়ি ও ননদ।
এর মধ্যেই শানু জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। আনন্দের খবর শেয়ার করলে শ্বশুরবাড়ির কেউ কোনও গুরুত্ব দেননি। বরং কয়েকদিনের মধ্যেই শিবমের বোন রুচি একটি ওষুধ এনে খেতে বাধ্য করেন তাঁকে। পরে শানু জানতে পারেন সেটি গর্ভপাতের ওষুধ। তাঁর দাবি, দইয়ের সঙ্গে মশলা মিশিয়ে খাওয়ানো হতো, যার ফলে গলা জ্বালা শুরু হয়। ক্রমে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
১৮ জুন, অসুস্থ অবস্থায় বাবা-মা তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। সেদিনই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা ফোন করে গালাগাল করেন এবং তালাক দেওয়ার হুমকি দেন। পরে, ৯ জুলাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে জানা যায়, তিনি প্রচুর রক্তক্ষরণে ভুগছেন এবং গর্ভপাত হয়ে গেছে। ২৬ জুলাই শ্বশুরবাড়ি ফিরতে গেলে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি তাঁকে। গয়না ও কাপড় ফেরত দিতেও অস্বীকার করা হয়। এরপর থেকে শানু রয়েছেন বাবা-মায়ের কাছে।
অবশেষে ১৪ আগস্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শানু। অভিযোগে উল্লেখ করেছেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌতুকের দাবি, জোর করে গর্ভপাত করানো, হুমকি এবং ব্ল্যাকমেলিং। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
