প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগণা : চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত পানিহাটি। প্রতিবছর এই পানিহাটিতে ঐতিহ্যবাহী দন্ডমহোৎসব তথা দই-চিঁড়ের মেলা বসে। আর এই মেলাকে উপলক্ষ করে পানিহাটিতে পুণ্যার্থীদের ঢল। এবার এই মেলা ৫১০ বছরে পদার্পণ করল। পানিহাটির গঙ্গা তীরবর্তী মহোৎসবতলা ঘাটে শনিবার থেকে শুরু হল ঐতিহাসিক এই উৎসব। ভক্তদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই উৎসবকে ঘিরে ব্যারাকপুর সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়। জানা যায়, তিন বছর আগে ২০২২ সালের দন্ডমহোৎসবে ভ্যাপসা গরমে ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে তিনজন পুন্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই কারনে এবছরও যে কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছিল প্রশাসন। রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তাই নয়া সরকারের প্রশাসন পুর্নার্থীদের ভিড় সামাল দিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এবার উৎসব প্রাঙ্গণে ভক্ত সমাগমে কার্যত জন জোয়ারের রূপ নিয়েছিল।
এই মেলার পেছনে আছে এক ইতিহাস। প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, হুগলি জেলার অন্তর্গত আদি সপ্তগ্রাম কৃষ্ণপুরে বাসিন্দা রঘুনাথ দাস গোস্বামী । তিনি নিত্যানন্দের কাছ থেকে দীক্ষা নেবেন বলে ঠিক করেন এই দীক্ষা নেওয়ার জন্য নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর খোঁজে তিনি বের হন, প্রথমে যান শান্তিপুরে সেখানে ওনার সাথে দেখা না হওয়ায় তিনি যান নীলাচলে সেখানে চৈতন্যদেবের সাথে দেখা হয়। চৈতন্যদেব তাঁকে দীক্ষা নেওয়ার জন্য নিত্যানন্দের কাছে যেতে বলেন। চৈতন্য দেবের কাছেই তিনি নিত্যানন্দের খোঁজ পান। সেই মতো রঘুনাথ দাস গোস্বামী পানিহাটিতে আসেন। আজ থেকে ৫০৯ বছর আগে এই দিনটিতে তৎকালীন হুগলী জেলার সপ্তগ্রামের রাজার পুত্র রঘুনাথ দাস গোস্বামী নিত্যানন্দ মহাপ্রভুকে না জানিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা লাভের চেষ্টা করেছিলেন। সেই ঘটনা জানা মাত্রই বিরাগভাজন হন নিত্যানন্দ। শাস্তি হিসাবে রঘুনাথ দাসকে নিত্যানন্দ মহাপ্রভু সমস্ত ভক্তদের দই-চিড়ে-কলা খাওয়ানোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ সাদরে গ্রহণ করেন রঘুনাথ দাস। তখন তিনি রাজি হন এবং সমস্ত খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। ইতিমধ্যেই খবর যায় হুগলি জেলার আদি সপ্তগ্রামে। সেখান থেকে চিড়া খই মুড়কি আসে আর জৈষ্ঠ মাসের যে সমস্ত ফল হয় আম কাঁঠাল জাম দই বিভিন্ন কিছু দিয়ে ভক্তদেরকে খাওয়ান। সেই সময়কাল থেকেই পানিহাটি মহোৎসবতলা ঘাটে প্রত্যেক বছর জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ত্রয়োদশীতে পালিত হয়ে আসছে দন্ডমহোৎসব।
তখন থেকেই শুরু হয় নিত্যানন্দের হাত ধরে মালসা ভোগের আর এরপর থেকেই শুরু হয় দন্ড মহোৎসব সেই দন্ডমহোৎসব। যা আজ দেখতে দেখতে ৫১০ বছরে পদার্পণ করল ।