ওঙ্কার ডেস্ক: ব্যাপক বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বানভাসির পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল উত্তরবঙ্গে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। বন্যায় ভেসে গেছে ছোটো বড় সেতু। মিরিক অঞ্চলের গুরুত্বপুর্ণ ব্রিজ একেবারেই ভেঙ্গে যায়। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে ঐ সেতু পুনঃরায় বানাতে এক বছরের বেশি সময় লাগবে। পাহাড়ি পথে একাধিক জায়গায় ধ্বস নেমেছে। কার্যত মূল রাস্তাগুলি বন্ধ হয়ে গেছে উত্তরের জেলাগুলিতে। মঙ্গলবার বন্যা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে কিছু বিকল্প রাস্তা চালু করেছে প্রশাসন। মূলত সেই রাস্তা দিয়েই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড়ের মূল প্রবেশপথ হিল কার্ট রোড দিয়ে এখন শুধুমাত্র নামার দিকের যান চলাচল অনুমোদিত হয়েছে। তিন ধাড়িয়া হয়ে সুকনা পর্যন্ত এই রাস্তায় ছোট গাড়ি নামতে পারছে। অন্যদিকে, পানখাবাড়ি রোড দিয়ে ওঠানামা দু’দিকেই সম্ভব হলেও রাস্তাটি বেশ দুর্গম ও পিচ্ছিল হওয়ায় চালকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জনপ্রিয় রোহিণী রোড এখনও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। কয়েকটি জায়গায় বড় ধস নামায় রাস্তা বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। একইভাবে, মিরিক রুটে দুধিয়া অঞ্চলের কাছে সেতু ভেঙে পড়ায় সেই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙের দিকে যাত্রা করতে পর্যটকদের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এছাড়া কালিম্পং, লাভা এবং গরুবাথান এলাকার ছোট ছোট রাস্তা অনেক জায়গাতেই ধসে গিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই রাস্তাগুলির মেরামতির কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে কিছু রাস্তায় পুনরায় চলাচল শুরু হতে পারে।
এদিকে, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত সেবা রোডের অংশে রাত বারোটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। পরবর্তী চার সপ্তাহ পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রশাসন ও পর্যটন দফতর জানিয়েছে, দার্জিলিঙে পর্যটকদের প্রবেশে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে আপডেট জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধীরে ধীরে ফিরে আসছে, কিন্তু প্রকৃতির অনিশ্চয়তাকে মাথায় রেখেই সচেতনভাবে চলাচল করাই এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
