ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স ও কোচবিহার অঞ্চলসহ নানান এলাকায় বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা, মহানন্দা, তোর্সা, জলঢাকা ও অন্যান্য নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপরে চলে গেছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের নীচু এলাকায় জলের উচ্চতা কয়েকফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কোচবিহারের কয়েকটি এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানি জমেছে, ফলে সেখানকার মানুষজন তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ধস নামায় পাহাড়ি এলাকা ও নদী তীরে বসবাসকারীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
দার্জিলিং ও কালিম্পং অঞ্চলে পাহাড়ি ধস ও ঝড়ো বর্ষণের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা-ঘাট ভেঙে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়েছে। শিলিগুড়ির পোড়াঝাড় এলাকায় মহানন্দা নদীর বাঁধ ভেঙে পড়ার ফলে আশপাশের গ্রাম ও শহরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনেও আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, ডুয়ার্স ও সংলগ্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বন্যা পরিস্থিতি স্থানীয় মানুষের জীবনে বিরাট ধ্বংস ও মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। জড়িত জেলা প্রশাসন, উদ্ধারকারী সংস্থা ও স্থানীয় পুলিশ নৌকাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবুও দুর্গম এলাকাগুলিতে সাহায্য পৌঁছানো এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
