ওঙ্কার ডেস্ক: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোমবারই উত্তরবঙ্গে গেছেন ম্যুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। নগরকাটা, মিরিক, দুধিয়া সমস্ত জায়গা পর্যবেক্ষন করবেন তিনি। সোমবার উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান তিনি। বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকা ঘুরে তিনি জানান, “এই পরিস্থিতি সামাল দিতে একবছরের বেশি সময় লাগতে পারে। তার আগে কিছু অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রশাসনের তরফ থেকে।
টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর বেড়ে গিয়ে বন্যার রুপকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। সাধারন জনজীবন ব্যপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। উত্তরবঙ্গের বানভাসিতে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের দেহ উদ্ধার করে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষনা করেছেন মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরন হিসাবে দেওয়া হবে এবং পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে।
বন্যা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক। মিরিক দুধিয়া সংযোগকারী ব্রিজ ভেঙ্গে গিয়েছে বন্যায়। এতে ঐ এলাকার যোগাযোগ ব্যাবস্থা একেবারেই বন্ধ। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ঐ ব্রিজ পূননির্মান করতে এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। যাতে সাধারন মানুষের সমস্যা না হয় সেকারনে অস্থায়ী সেতু নির্মান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার মিরিক অঞ্চলের অবস্থা দেখতে সেখানে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করবেন তিনি।
পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিও যাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ সফরে। তিনিও বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলে খবর। এয়ারপোর্টে সাংবাদিক দের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা জানান, তিনি মিরিকের অবস্থা দেখতে সেখানেই যাচ্ছেন। যাতায়াত ব্যাবস্থা বিঘ্ন হওয়ায় ওয়ান ওয়ে রাস্তায় বিশেষ ভাবে তাঁদের নিয়ে যাওতার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি তিনি খগেন মুর্ম এবং শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। সুত্রের খবর অনুযায়ী এদিন উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রজ্জু।
উত্তরবঙ্গের বানভাসীতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দের আর্জি শুনতে এবং সাহায্যের হাত বাড়াতে সেখানে পৌঁছে যান রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তিনি তাঁদের হাতে ত্রানও তুলে দেন এদিন। বিজেপি নেতাদের উপর হামলা প্রসঙ্গে রাজ্যপাল মন্তব্য রাখেন। তাঁর মতে কোনো রাজনৈতিক নেতার উপর এমন হামলা গনতন্ত্রের ক্ষতি।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে এখন আপাতত আর বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই উত্তরবঙ্গে। এতে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে সেখানকার বন্যাকবলিত মানুষ। জেলার নদীগুলিরও জলস্তর অনেকটায় নেমে গেছে। এখন বন্যার সম্ভাবনা না থাকলেও বিপদ এখনও সম্পুর্নভাবে কাটেনি। বন্যার পর জলবাহিত রোগের আশঙ্কা থেকি যায়। এখন প্রশাসনের কর্মকান্ডের উপর ভরসা উত্তর বঙ্গের জনজীবনের।
