ওঙ্কার ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। টানা মুষলধারে বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন জেলায় নদীগুলি হঠাৎ করেই ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। তিস্তা, জলঢাকা সহ একাধিক নদী বিপদসীমার অনেক ওপরে বইছে। ফলস্বরূপ একদিকে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে একাধিক স্থানে ধস নেমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।
সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে দার্জিলিংয়ের দুধিয়া এলাকায়। সেখানকার দুধিয়া সেতুতে ফাটল ধরেছে, একাংশ ভেঙে পড়েছে। ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা সেতুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এর পাশাপাশি জাতীয় সড়ক ১০–এর একাধিক অংশে ধস নামায় শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং, রিশপ, পেদং–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একাধিক জায়গায় এখনও মানুষ ধ্বংসস্তূপ বা জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। উদ্ধারকাজে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সেনার সহায়তাও চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং এবং উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলা থেকেও বন্যার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গ্রামীণ এলাকায় বাড়িঘর জলের তলায় ডুবে গিয়েছে, ভেঙে পড়েছে কাঁচা–পাকা ঘরবাড়ি। একাধিক চাষের জমিও জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তর সিকিমে। লাচেনসহ বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধস ও বন্যার কারণে পর্যটকরাও আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে চলছে জোরকদমে চেষ্টা।
প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ জায়গায় সরানো হচ্ছে। ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস আরও দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিয়ে শঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।
