ওঙ্কার ডেস্ক: ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় বাতিল হয়ে গিয়েছে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের মেধাতালিকা। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে নতুন করে মেধাতালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হলেও, রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গবইয়ের বেঞ্চে ওবিসি সংক্রান্ত মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।
আইনজীবী মহলের অনুমান, সেই শুনানিতেই জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মেধাতালিকা বাতিলের বিষয়ে হাই কোর্টের নির্দেশ নিয়েও শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতে পারে। এর আগে ওবিসি শংসাপত্র ইস্যু নিয়ে রাজ্যের সব সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। পরে সেই স্থগিতাদেশের উপরই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। তখন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মন্তব্য করেছিল, “এটা আশ্চর্যজনক! হাই কোর্ট কীভাবে এমন করে স্থগিতাদেশ দিতে পারে? আমরা বিস্মিত”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের ফলপ্রকাশের কথা থাকলেও, ওবিসি সংক্রান্ত এই জটিলতায় তা আটকে যায়। হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ মেধাতালিকা বাতিল করে জানান, নতুন তালিকা প্রকাশ করতে হবে ২০১০ সালের আগের অনুমোদিত ৬৬টি ওবিসি সম্প্রদায়ের তালিকা মেনে। নতুন ওবিসি তালিকা ধরে মেধাতালিকা প্রকাশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পাশাপাশি, পুরনো বিধি অনুযায়ী পূর্বের মতোই ৭ শতাংশ সংরক্ষণ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে, তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডকে।
এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু শুক্রবার জানান, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে হাই কোর্ট এভাবে অন্য সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমাদের ধারণায় ছিল না। আজকেই আমরা সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানাব”।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের পরে রাজ্যের নতুন ওবিসি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পেশাগত সমীক্ষার ভিত্তিতে। সেই তালিকা প্রকাশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা হয় এবং অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি হয়।পরে সুপ্রিম কোর্টও হাই কোর্টের এই নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। বর্তমানে রাজ্য সরকারের চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে সোমবার শীর্ষ আদালতের শুনানিতেই স্পষ্ট হবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স মেধাতালিকা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ রূপরেখা।
