ওঙ্কার ডেস্ক : সেনা অভিযানে পহেলগাঁও হামলার মূল চক্রী নিহত, কাশ্মীরে তিন লস্কর-ই-তইবা জঙ্গিকে খতম করার পর এমনটাই দাবি করছে নিরাপত্তাবাহিনী। জানা গিয়েছে, সোর্স মারফত খবর পেয়ে কয়েকদিন ধরেই গুটি সাজাচ্ছিল সেনাবাহিনী। অবশেষে সোমবার শ্রীনগরের কাছে দাচিগাঁও অরণ্যে অপারেশন মহাদেবে সাফল্য আসে। সেনাবাহিনীর দাবি, অভিযানে নিহত হয় তিন লস্কর-ই-তইবা জঙ্গির অন্যতম হাশিম মুসা ওরফে সুলেমান শাহ।
গোয়েন্দারা আগেই জেনেছিল হাশিম মুশা হল পাকিস্তান সেনার এলিট ইউনিট স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের প্রাক্তন কমান্ডো। পরে সে লস্কর-ই-তইবা-য় যোগ দিয়ে হাফিজ সঈদের নেতৃত্বে কাশ্মীরে নাশকতার ছক কষছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের। হামলার পর থেকে সুলেমান শাহ গান্ডেরবল জেলায় লুকিয়ে ছিল, এমন খবর বহুদিন ধরে গোয়েন্দার কাছে আসছিল। অবশেষে ‘অপারেশন মহাদেব’ সেনা অভিযানে তার মৃত্যু হয়, সেই সঙ্গে মারা যায় তার দুই সহযোগী।
কয়েকদিন ধরেই ওই জঙ্গি দলটিকে পাকড়াও করতে জাল বিছোচ্ছিল সেনাবাহিনী। রবিবার রাত ২টো নাগাদ তারা সক্রিয় করে ‘টি-৮২ আল্ট্রাসেট’ নামে একটি হাই-এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেটির সঙ্কেত ধরেই জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত করেন সেনা আধিকারিকরা। তাদের গতিপ্রকৃতি দেখার জন্য ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হয়। সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ ড্রোন পাঠিয়ে ছবি তোলা হয়। আধ ঘণ্টা বাদে, ৯:৩০ নাগাদ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস বাহিনী ও প্যারা স্পেশাল ফোর্স জওয়ানরা ঘিরে ফেলে মহাদেব পাহাড়। ১০টায় জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত ভাবে জানার পর ১১টায় শুরু হয় অন্তিম অভিযান। জঙ্গিদ্র খতম করতে মাত্র মিনিট ১৫ গুলির লড়াই। সেই অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয় তিন জঙ্গি। তাদের মধ্যে একজন পালানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি। তাকেও গুলি করে মারে সেনাবাহিবী। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ক্লিন আপ করার পর জঙিদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়।
জঙ্গি আস্তানায় মজুত ছিল বিপুল অস্ত্র
অভিযানের পর তাদের গোপন আস্তানার হদিশ মেলে। সেখানে ম্পজুত ছিল বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র। গভীর অরণ্যের মধ্যে ওদের ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয় কারবাইন, একাধিক একে-৪৭ রাইফেল, ১৭টি রাইফেল গ্রেনেড-সহ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ওই জঙ্গি দল কাশ্মীরে ফের বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছিল।
